বিরাট জয় বিএনপির, ফোন দিল্লির! ১৭ বছর পর দেশে ফিরে বাজিমাত করা তারেককে কী বার্তা দিলেন মোদি?

ওপার বাংলায় পালাবদলের পর এবার নতুন সম্পর্কের বার্তা দিল দিল্লি। বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তথা হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৭ বছর নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের এই অভাবনীয় সাফল্যকে পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত মিলল এই ফোনালাপে।
ফোনে কী কথা হলো? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই সামাজিক মাধ্যমে এই ফোনালাপের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন:
“তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আমি আনন্দিত। বাংলাদেশের নির্বাচনে অসাধারণ জয়ের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তাঁর যে প্রচেষ্টা, তার প্রতি আমার শুভেচ্ছা ও সমর্থন রইল।”
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ: আওয়ামী লিগ বিহীন এই নির্বাচনে বিএনপি জোট ২০০-র বেশি আসনে জয়ী হয়েছে। ভারত যে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে, মোদির এই শুভেচ্ছাবার্তাই তার বড় প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনে আবদ্ধ দুটি ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত উভয় দেশের জনগণের শান্তি, প্রগতি ও সমৃদ্ধির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।”
রাজনৈতিক গুরুত্ব: দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লিগ সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলা ভারত, এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে চলা নতুন সরকারের সঙ্গেও কাজ করতে যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, মোদির এই ফোন সেই বার্তাই স্পষ্ট করল। একইসঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক লড়াই এবং রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে ভারত তার ‘প্রতিবেশী প্রথম’ (Neighbourhood First) নীতিতে অটল থাকল।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন এক নতুন সূর্যোদয় ঘটছে, তখন দিল্লি ও ঢাকার মধ্যেকার সম্পর্কের রসায়ন কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহল।