আলিমুদ্দিনের চার দেওয়াল ছেড়ে এবার আমজনতার মুঠোয় বামেদের ইস্তাহার! বড় চমক সিপিআইএম-এর

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কোমর বাঁধছে সব রাজনৈতিক দলই। তবে এবার আর কেবল চার দেওয়ালের মধ্যে বসে বড় বড় নেতাদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, সাধারণ মানুষের বাস্তব চাহিদাকেই ইস্তাহারে রূপ দিতে চাইছে সিপিআইএম (CPIM)। ভোটমুখী বাংলায় বামেদের নতুন ডিজিটাল স্লোগান— ‘আপনার মতামত, আমাদের ইস্তাহার’।
কীভাবে জানানো যাবে মতামত? দলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ ডিজিটাল ফর্ম বা লিঙ্ক প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান বা কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মানুষ ঠিক কী চাইছেন, তা সরাসরি ওই ফর্মে লিখে পাঠাতে পারবেন। বাম নেতাদের দাবি, জনতাই হবে আগামীর ইস্তাহারের কারিগর। ডিজিটাল প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনকে কাজে লাগিয়ে গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র পৌঁছে যেতে চাইছে আলিমুদ্দিন।
ডিজিটাল ভলান্টিয়ার নিয়োগ: কেবল মতামত জানানোই নয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে দলের প্রচারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে চাইছে সিপিআইএম। আগ্রহী ব্যক্তিরা ওই ডিজিটাল ফর্মের মাধ্যমেই দলের ‘ডিজিটাল ভলান্টিয়ার’ হিসেবে কাজ করার জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচনের আগে সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজেদের লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতেই এই মাস্টারস্ট্রোক।
বিজেপি-সিপিআইএম টক্কর: ইস্তাহার তৈরিতে জনতার মতামত নেওয়ার দৌড়ে অবশ্য বামেরা একা নয়। একই পথে হাঁটছে গেরুয়া শিবিরও। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির গাড়ি ঘুরবে, যেখানে মানুষ সরাসরি তাঁদের পরামর্শ দিতে পারবেন। ফোন নম্বরও চালু করেছে তারা। পাল্টা হিসেবে সিপিআইএম-এর এই ডিজিটাল উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কতটা টানতে পারে, সেটাই এখন দেখার।
বামেদের লক্ষ্য: আগের বিধানসভা নির্বাচনে শুন্য হাতে ফিরতে হলেও, এবার মানুষের মনের কথা বুঝে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া বামেরা। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো জ্বলন্ত ইস্যুগুলোকে ইস্তাহারে প্রাধান্য দিয়ে জনতার বিশ্বাস অর্জনই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।