জমি মিউটেশনেও তৃণমূল নেত্রীর ছেলের ‘দাদাগিরি’! জাল ডিসিআর ধরিয়ে বৃদ্ধকে খুনের হুমকি, তোলপাড় মালদা

জমির শ্রেণি পরিবর্তন বা মিউটেশন করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার সাধারণ মানুষ। এবার খোদ ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে জাল ডিসিআর (DCR) চক্র চালানোর অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।

ঘটনাটি কী? কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা ৬৭ বছর বয়সী বৃদ্ধ দিলীপ দাস সম্প্রতি তাঁর জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য সরকারি দফতরে যান। অভিযোগ, সেখানে নিজেকে ‘মুহুরী’ পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন জীবন সাহা। জীবন স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যা সীমা সাহার ছেলে। দিলীপবাবুর দাবি, কাজ করে দেওয়ার নাম করে জীবন তাঁর কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেন এবং গত ৭ ফেব্রুয়ারি একটি সরকারি ডিসিআর ধরিয়ে দেন।

জালিয়াতি যেভাবে ফাঁস: সন্দেহ হওয়ায় দিলীপবাবু ডিসিআরটি অনলাইনে সার্চ করেন। তখনই চক্ষু চড়কগাছ! দেখা যায়, সেটি সম্পূর্ণ জাল। অন্য এক ব্যক্তির নামের ডিসিআর এডিট করে জালিয়াতি করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, প্রতারিত বৃদ্ধের অভিযোগ, জীবন সাহা আরও টাকা দাবি করছে এবং টাকা না দিলে তাঁকে খুনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। ইতিমিধ্যেই ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে জীবনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

অভিযুক্ত ও প্রশাসনের বক্তব্য: যদিও জীবন সাহা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে কালিমালিপ্ত করতেই এই সাজানো অভিযোগ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রেভিনিউ অফিসার হিমাংশুকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দোষ প্রমাণিত হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উত্তপ্ত রাজনীতি: ভোটের ঠিক আগে এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের কটাক্ষ, “এই সরকারটাই ভুয়ো, তাই সরকারি নথিও এডিট করে জালিয়াতি চলছে।” পালটা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতির প্রশ্নে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেন, তাই প্রশাসন খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

এখন দেখার, এই সরকারি নথি জালিয়াতি চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত।