অচেতন অবস্থাতেই হাতে উঠল মালা! পুলিশ হতে চাওয়া যুবককে মাদক খাইয়ে ‘জোর জবরদস্তি’ বিয়ে বিহারে

বিহারের বহুচর্চিত ‘পাকড়ুয়া বিবাহ’ বা অপহরণ করে বিয়ে দেওয়ার প্রথা যে ২০২৬ সালেও কতটা ভয়ানক হতে পারে, তার প্রমাণ মিলল সমস্তিপুরে। হোমগার্ডে কর্মরত এক যুবককে মাদক খাইয়ে অপহরণের পর জোর করে ছাদনাতলায় নিয়ে গিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসানোর অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা রাজ্যে।
ঘটনাটি কী? অভিযোগ, গত ৭ ফেব্রুয়ারি নীতীশ কুমার নামে ওই যুবক যখন লাইব্রেরিতে যাচ্ছিলেন, তখনই তাঁকে একদল দুষ্কৃতী অপহরণ করে। নীতীশ পুলিশ অফিসার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁকে প্রথমে ব্যাপক মারধর করা হয় এবং পরে মাদক খাইয়ে অচেতন করে দেওয়া হয়। সেই অর্ধচেতন অবস্থাতেই মোরওয়ার একটি মন্দিরে নিয়ে গিয়ে লক্ষ্মী কুমারী নামে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে শিউরে ওঠা দৃশ্য: সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, নীতীশ কুমার বিয়ের পিঁড়িতে মাথা নত করে প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় বসে আছেন। তিনি নিজে বরমাল্য ধরার অবস্থায় ছিলেন না, অন্য কয়েকজন তাঁর হাত ধরে জোর করে কনের গলায় মালা পরিয়ে দিচ্ছেন। বিয়ের পর তাঁকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ নীতীশের।
পুলিশি তৎপরতা: ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সমস্তিপুর পুলিশ নীতীশকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। পাটোরি থানার ইনচার্জ অনিল কুমার জানিয়েছেন, “পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং এই বিয়ের নেপথ্যে কোনো পূর্ব শত্রুতা বা সম্পর্ক ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
বিহারে যোগ্যতা সম্পন্ন পাত্রদের অপহরণ করে এমন জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে প্রশাসনের কড়া নজরদারির পরেও শিক্ষিত ও কর্মরত এক যুবকের সঙ্গে এমন আচরণে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।