“১০ বছরের বেশি কুর্সিতে বসা বারণ!”-আর আজীবন প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে না ওপার বাংলায়?

বাংলাদেশে শুধু সরকারই বদলায়নি, বদলে গেল দেশের শাসনতন্ত্রের খোলনলচেও। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ‘জুলাই সনদ’-এর সংস্কার প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। এর ফলে বাংলাদেশের ক্ষমতা কাঠামোয় এক ঐতিহাসিক ভারসাম্য আসতে চলেছে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস একে “নতুন বাংলাদেশের জন্ম” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

কী কী বড় বদল আসছে ওপার বাংলায়? একনজরে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি পয়েন্ট:

  • ১. আসছে ‘রাজ্যসভা’: ভারতের আদলে এবার বাংলাদেশেও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ হতে চলেছে। নতুন ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে এখন থেকে দুই কক্ষের সম্মতি বাধ্যতামূলক, ফলে কোনো দল এককভাবে একনায়কতন্ত্র চালাতে পারবে না।

  • ২. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদে কোপ: ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে কঠোর নিয়ম! একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এমনকি তিনি একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের পদেও বসতে পারবেন না।

  • ৩. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি: এতদিন রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, এখন থেকে মানবাধিকার কমিশন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং প্রেস কাউন্সিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগগুলো রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে করতে পারবেন।

  • ৪. সাংসদদের ‘বিদ্রোহের’ অধিকার: এতদিন বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলীয় নির্দেশের বাইরে ভোট দিলে সাংসদ পদ চলে যেত। নতুন নিয়মে সাংসদরা স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ ও ভোট দিতে পারবেন।

  • ৫. জরুরি অবস্থায় বিধি: প্রধানমন্ত্রী চাইলেই আর একা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন না। এর জন্য মন্ত্রিসভা ও বিরোধী দলের সম্মতি লাগবে। জরুরি অবস্থার মধ্যেও কেড়ে নেওয়া যাবে না মানুষের মৌলিক অধিকার।

১৮০ দিনের চ্যালেঞ্জ: বাস্তবায়নের পথে তারেক রহমান

নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর এখন একটি সাংবিধানিক সংশোধনী পরিষদ গঠিত হবে। গণভোটের রায় অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার ১৮০ দিনের মধ্যে এই সংস্কারগুলি কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের জন্য ডেপুটি স্পিকারের পদ বরাদ্দ রাখা এবং নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরও মজবুত করতে চায় নতুন প্রশাসন।

বাংলাদেশের এই ‘নতুন সংবিধান’ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।