পুরভোটে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল বিজেপি-বিআরএস! দক্ষিণ ভারতে রাহুল-রেভন্তের ম্যাজিক, গেরুয়া শিবিরে কান্নার রোল

মহারাষ্ট্রে ধাক্কা খেলেও নিজেদের দুর্গে ফিরল কংগ্রেস। তেলঙ্গনার পুরভোটে রীতিমতো ‘সুনামি’ তৈরি করে বিরোধী দলগুলিকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিল শাসকদল। ১১ ফেব্রুয়ারি হওয়া নির্বাচনের ফলাফল বেরোতেই দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের ১১৬টি পুরসভা এবং ৭টি পুরনিগমের সিংহভাগই এখন মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডির দলের কবজায়।
ফলাফলের এক্স-রে: শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১১৬টি পুরসভার প্রায় ২,৫৬৯টি ওয়ার্ড এবং ৭টি পুরনিগমের ৪১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে কংগ্রেস ১,৫০০-র বেশি আসনে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের দল বিআরএস (BRS) দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও তারা কংগ্রেসের চেয়ে অনেক পিছিয়ে (প্রায় ৭৬৫টি আসন)। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। রাজ্যে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখলেও মাত্র ২৭০-২৮৫টি আসনে থমকে যেতে হয়েছে পদ্ম শিবিরকে।
কেন এই বিপর্যয় বিরোধীদের? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাম পঞ্চায়েত ভোটের পর পুরভোটেও কংগ্রেসের এই জয় প্রমাণ করে দিচ্ছে যে রাজ্যের নগরকেন্দ্রিক ভোটব্যাঙ্কেও থাবা বসিয়েছে তারা। অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা ভালো ফলের দাবি করলেও লড়াইয়ে কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে হিন্দুত্ব কার্ড। বিআরএস নিজেদের জমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করলেও কংগ্রেসের ঝোড়ো হাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
ঘোড়া কেনাবেচার ভয় ও শপথ গ্রহণ: ব্যালট পেপারে ভোট হওয়ার কারণে গণনা শেষ হতে সময় লাগলেও, জয় নিশ্চিত জেনেই শাসক-বিরোধী সব দলই তাদের প্রার্থীদের ‘নিরাপদ ডেরায়’ সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। যাতে জয়ী কাউন্সিলররা দলবদল না করেন, তার জন্য চলছে কড়া নজরদারি।
আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টায় সমস্ত জয়ী কাউন্সিলর এবং পুর প্রতিনিধিরা শপথ নেবেন। ওই দিনই বিশেষ বৈঠকের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হবে ৭টি পুরনিগমের মেয়র এবং ১১৬টি পুরসভার চেয়ারম্যানদের।
তেলঙ্গনার এই ফলাফল ২০২৬-এর জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসকে নতুন অক্সিজেন দেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।