বিয়ের আনন্দ বদলে গেল বিষাদে! তিস্তার গভীর খাদে ছিটকে পড়ল গাড়ি, সিকিমের ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

শিলিগুড়িতে আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের উৎসব সেরে গ্যাংটক ফিরছিলেন চার যুবক। কিন্তু বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছানোর আগেই সব শেষ। শুক্রবার ভোররাতে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ২৯ মাইল এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাড়ি সরাসরি তিস্তা নদীর গভীর খাদে পড়ে যায়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সিকিমের দুই বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে এবং আরও দু’জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার বিবরণ: পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদের নাম অনিকেত প্রসাদ গুপ্তা (২৮) এবং আমন গুপ্তা (২৪)। ভোররাতে শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক যাওয়ার পথে কালিম্পংয়ের বাদরেভিরিক এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিস্তা নদীতে বর্তমানে জল কম থাকায় গাড়িটি খাড়া পাহাড় থেকে পড়ে পাথরের আঘাতে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান অনিকেত ও আমন। পুলিশ ও দমকল বাহিনী দ্রুত পৌঁছে আহত কুণাল গুপ্তা ও পবন কুমার প্রসাদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তাদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

কেন এই বিপর্যয়? দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। স্থানীয় গাড়িচালকদের অভিযোগ, ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ওই অংশে কোনও স্ট্রিট লাইট বা পর্যাপ্ত গার্ডওয়াল নেই। অন্ধকার রাস্তায় বাঁক নিতে গিয়েই গাড়িটি খাদে পড়ে যায়। যদিও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালানোর ফলে চালক হয়তো ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।

পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য: কালিম্পংয়ের পুলিশ সুপার অপরাজিতা রাই জানিয়েছেন, মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুমড়ে যাওয়া গাড়িটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। অন্যদিকে, নিহতদের আত্মীয় নিরঞ্জন গুপ্তা শোকাতুর কণ্ঠে জানান, বিয়ের অনুষ্ঠান সেরে হাসিখুশি মনেই বেরিয়েছিল যুবকরা, কিন্তু পথেই নেমে এল চরম অন্ধকার।

ভোররাতের এই দুর্ঘটনা পাহাড়ের যাতায়াত ব্যবস্থায় নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।