পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপিতে ধস! তৃণমূল ভবনে বড় ‘খেলা’, হাতছাড়া হচ্ছেন ময়নার দাপুটে নেতা চন্দন

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই বড়সড় ভাঙন গেরুয়া শিবিরে। শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে ফের থাবা বসাল ঘাসফুল শিবির। শুক্রবার তৃণমূল ভবনে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কুণাল ঘোষের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন ময়নার দাপুটে বিজেপি নেতা তথা তিনবারের জেলা সম্পাদক চন্দন মণ্ডল

প্যারাশুট নেতাদের দাপটে অতিষ্ঠ ‘আদি’ বিজেপি: দীর্ঘ ১০-১২ বছর বিজেপির ঝাণ্ডা বয়ে বেড়ানো চন্দন মণ্ডলের দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যোগদানের পরেই ময়নার বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে চন্দন বলেন, “বিধায়ককে এলাকায় দেখাই যায় না। বর্ষায় মৎস্যজীবীরা সমস্যায় পড়লে বা সেচের জলের দরকার হলে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। দলে এখন আদি কর্মীদের সম্মান নেই, শুধু বহিরাগত আর প্যারাশুট নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক দক্ষতায় আস্থা রেখেই তাঁর এই ঘরওয়াপসি বলে জানান তিনি।

বাকি আছে আসল চমক! এদিনের যোগদান পর্বে সবচেয়ে বড় জল্পনা তৈরি করেছেন কুণাল ঘোষ। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, চন্দন মণ্ডল তো কেবল ‘ট্রেলার’, আসল সিনেমা এখনও বাকি। চন্দনের স্ত্রী বর্তমানে বিজেপির গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান। খুব শীঘ্রই স্ত্রীসহ একঝাঁক অনুগামী ও নির্বাচিত প্রতিনিধি ধাপে ধাপে তৃণমূলে শামিল হতে চলেছেন বলে দাবি শাসকদলের।

তৃণমূলের মাস্টারস্ট্রোক: পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এলাকাটি মূলত মৎস্যজীবী প্রধান। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতে, চন্দনের মতো সাংগঠনিক নেতাকে পাওয়ায় মৎস্যজীবীদের সমস্যা সমাধান এবং এলাকার সংগঠন মজবুত করা আরও সহজ হবে। অন্যদিকে কুণাল ঘোষের কটাক্ষ, “আদি বনাম নব বিজেপির লড়াইয়ে পুরনো কর্মীরা দিশেহারা। মেদিনীপুরে বিজেপির পতন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।”

গত বিধানসভায় ময়না আসনটি বিজেপির দখলে থাকলেও, চন্দন মণ্ডলের এই দলবদল ২০২৬-এর আগে সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।