আজ সন্ধ্যা ৬টাই ডেডলাইন! আরজি কর আবহে দখল হওয়া স্কুল নিয়ে সিআইএসএফ-কে চরম নির্দেশ হাইকোর্টের

আরজি কর আবহে নিরাপত্তার খাতিরে আসা সিআইএসএফ (CISF) জওয়ানদের ডেরা এবার খালি করার পালা। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ট্যাংরা এলাকার ‘পেই মে চাইনিজ হাইস্কুল’ (Pei May Chinese High School) নিয়ে ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে স্কুলের দখল ফিরে পেতে চলেছেন কর্তৃপক্ষ।
আদালতের কড়া নির্দেশ: আজ, শুক্রবার বিকেল ৩টে ৪৮ মিনিটে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই সিআইএসএফ-এর কাছ থেকে স্কুলের দখল বুঝে নিতে হবে আদালত নিযুক্ত বিশেষ অফিসারকে। ঘর হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়ায় সিআইএসএফ-এর গ্রুপ কমান্ডান্টকে সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ অফিসার তথা আইনজীবী অর্জ্য নন্দী জওয়ানদের কাছ থেকে চাবি বুঝে নিয়ে তা স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেবেন।
বিতর্কের প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ ছিল এই চিনা স্কুলটি। মূলত আরজি কর কাণ্ডের পর নিরাপত্তার স্বার্থে আসা সিআইএসএফ জওয়ানদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এখানে। কিন্তু স্কুল খালি না হওয়ায় পঠনপাঠন ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব পালনে বাধা আসছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী সপ্তাংশু বসু আদালতে জানান, বারবার আবেদন সত্ত্বেও এখনও একটি ঘরও তাঁদের হাতে ছাড়া হয়নি।
চিনা নববর্ষের আনন্দ ফিরছে ট্যাংরায়: আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি চিনা নববর্ষ। কলকাতার চিনা পাড়ায় এই উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, নববর্ষ পালনের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে যাবতীয় সহযোগিতা করতে হবে। মাত্র ১০টি ঘর বাদে বাকি সমস্ত অংশ আজই সিআইএসএফ-কে খালি করে দিতে হবে।
উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালতের এই দ্রুত হস্তক্ষেপে খুশি ট্যাংরা এলাকার বাসিন্দারা। এখন দেখার, ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ৬টার মধ্যে জওয়ানরা স্কুল প্রাঙ্গণ খালি করে দেন কি না।