নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন তলব! দিল্লি পৌঁছলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, নবান্ন-কমিশন সংঘাত তুঙ্গে

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগেই রাজ্য প্রশাসন ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সংঘাত এক চরম পর্যায়ে পৌঁছাল। বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) এবং অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরাসরি দিল্লিতে তলব করল নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার বিকেল ৩টের মধ্যে তাঁকে দিল্লির সদর দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠির অপেক্ষা না করে সরাসরি ফোনের মাধ্যমেই এই তলব করা হয়, যা প্রশাসনিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।

সংঘাতের মূল কারণ কী? এই সংঘাতের মূলে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ।

  • আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: বারুইপুর পূর্ব ও ময়নার চারজন নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে ভুয়া ভোটার তালিকা তৈরির অভিযোগ উঠেছিল। কমিশন তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর ও সাসপেনশনের নির্দেশ দিলেও নবান্ন তা কার্যকর করেনি।

  • অনুমতিহীন বদলি: কমিশনের অনুমতি ছাড়াই তিন আইএএস অফিসার—অশ্বিনী কুমার যাদব, রণধীর কুমার এবং স্মিতা পাণ্ডেকে বদলি করায় ক্ষুব্ধ কমিশন।

  • বিডিও-র ভূমিকা: বসিরহাট-১-এর বিডিও সুমিত্র প্রতিম প্রধানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অতিরিক্ত এএইআরও নিয়োগের অভিযোগও কমিশনের নজরে এসেছে।

ইতিমধ্যেই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে কোনো বাধা বরদাস্ত করা হবে না। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সক্রিয়তাকে ‘বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ’ বলে তোপ দেগেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর জন্য এটি এখন সবথেকে বড় অগ্নিপরীক্ষা।