দুপুরে ‘নিখোঁজ’ বিজেপি নেতা, রাতে উদ্ধার বিপুল মাদকসহ! কোচবিহারে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল

এক রহস্যময় নাটকীয় মোড় কোচবিহারের রাজনীতিতে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে নিখোঁজ থাকা সিতাই ব্লকের বিজেপি মণ্ডল সভাপতি মিঠুন বর্মনকে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করল পুলিশ। তবে এই গ্রেফতারি নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। পুলিশের দাবি, ওই বিজেপি নেতাকে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ পাচারের অভিযোগে হাতেনাতে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক চক্রান্ত এবং পরিকল্পিতভাবে নেতাকে ফাঁসানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার দুপুরে। মিঠুনবাবুর পরিবারের দাবি, তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। বিকেলে তাঁর স্ত্রী শিবানী বর্মন সিতাই থানায় স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরিও করেন। কিন্তু নাটকীয় মোড় নেয় রাতে, যখন সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ জানায় যে শিবপ্রসাদ মুস্তাফি এলাকা থেকে ৭৯ বোতল নিষিদ্ধ কাফ সিরাপসহ মিঠুন বর্মনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই বিপুল পরিমাণ মাদক নিয়ে তিনি পাচারের উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে (NDPS Act) মামলা রুজু করা হয়েছে।
শুক্রবার আদালতে পেশ করার সময় মিঠুন বর্মন নিজেই ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন। তিনি সরাসরি কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়াকে কাঠগড়ায় তুলে জানান, “বিজেপি করি বলেই আমাকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।” বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মনের দাবি, ভোটের আগে পায়ের তলার মাটি হারিয়েছে তৃণমূল, তাই একের পর এক বিজেপি নেতাকে মিথ্যে ড্রাগ কেসে ফাঁসানো হচ্ছে। যদিও সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়া পাল্টা জানিয়েছেন, “মিঠুন আমার আত্মীয় হতে পারে, কিন্তু ওর বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ ছিল। পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করার প্রশ্নই নেই।” নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের এই গ্রেফতারি ইস্যু এখন রাজপথ ছাড়িয়ে আদালত চত্বরেও উত্তাপ ছড়াচ্ছে।