মোদীকে ধন্যবাদ জানাল BNP, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে শুরু বসন্তের ছোঁয়া?

অবশেষে জল্পনার অবসান। বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। ২১০টি আসন জিতে এককভাবে সরকার গঠনের পথে তারা। আর এই জয়ের সঙ্গেই বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। ওপার বাংলায় ক্ষমতার এই পালাবদল হতেই দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বইতে শুরু করেছে নতুন হাওয়া।
তারেককে মোদীর বিশেষ বার্তা: তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক জয়ে কালক্ষেপ না করেই অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিজের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে মোদী লেখেন, “বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করার জন্য আমি তারেক রহমানকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই। এই জয় আপনার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন।” তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, ভারত সর্বদা একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
পাল্টা কৃতজ্ঞতা বিএনপির: ভারতের এই ইতিবাচক সাড়াকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি শিবির। দলের বর্ষীয়ান নেতা নজরুল ইসলাম খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী জনমতকে সম্মান জানিয়েছেন, এর জন্য আমরা তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।”
ভারত-বিএনপি সম্পর্ক: ‘অতীতের তিক্ততা’ কি এখন অতীত?
ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সাথে বিএনপির সম্পর্ক কিছুটা অম্লমধুর। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার শাসনামলে সীমান্ত সমস্যা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল তুঙ্গে। তবে ২০২৫ সালে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পর সেই সমীকরণে বড় বদল দেখা যাচ্ছে।
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি: তারেক রহমান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে সমমর্যাদা। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি কড়া ভাষায় জানিয়েছিলেন:
“ভারত বা পিন্ডি (পাকিস্তান)—কেউ আমাদের প্রভু হবে না। আমাদের কাছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। সম্পর্ক হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে।”
বিশ্লেষকদের মতে: ভারতের পক্ষ থেকে দ্রুত অভিনন্দন বার্তা পাঠানোর অর্থ হলো, দিল্লি বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে তৈরি। এখন দেখার বিষয়, তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের জল কতদূর গড়ায়।