বিপজ্জনক ১.৪৬° সেলসিয়াস! ২০২৬ কি হতে চলেছে ইতিহাসের উষ্ণতম বছর? বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তায় ত্রাহি ত্রাহি রব

২০২৬ সালের শুরুটা পৃথিবীর জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক হলো না। দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলো বর্তমানে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। একদিকে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা, অন্যদিকে মাইলের পর মাইল গ্রাস করে নেওয়া দাবানল— বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তন এখন প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে পুরোপুরি তছনছ করে দিচ্ছে।

কোথায় কোথায় ধ্বংসযজ্ঞ?
অস্ট্রেলিয়া: জানুয়ারি মাসেই পুরো দেশ এক নরককুণ্ডে পরিণত হয়েছে। অনেক জায়গায় তাপমাত্রা ৫০°C ছুঁইছুঁই। এটি অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অন্যতম উষ্ণতম জানুয়ারি।

আর্জেন্টিনা: ইউনেস্কোর হেরিটেজ সাইট ‘লস অ্যালার্সেস’ জাতীয় উদ্যানের ৩,০০০ বছরের পুরনো প্রাচীন বনাঞ্চল আগুনের গ্রাসে।

চিলি: উপকূলীয় বনাঞ্চলের দাবানলে ইতিমধ্যেই ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা: দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং প্রচণ্ড তাপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে।

লা নিনা (La Niña) কেন ব্যর্থ?
স্বাভাবিকভাবে ‘লা নিনা’ প্রশান্ত মহাসাগরকে শীতল করে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা কিছুটা কম রাখে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লা নিনা শুরু হওয়া সত্ত্বেও কেন এই দহন? ইম্পেরিয়াল কলেজের বিজ্ঞানী থিওডোর কিপিং-এর মতে, মানুষের তৈরি গ্রিনহাউস গ্যাস এখন প্রাকৃতিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়াকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ভয়ের বিষয় হলো, ২০২৬-এর শেষে যদি ‘এল নিনো’ (উষ্ণ প্রভাব) শুরু হয়, তবে পৃথিবী এক চরম বিপদের সম্মুখীন হবে।

২০২৬: উত্তপ্ত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত
ব্রিটিশ আবহাওয়াবিদ অ্যাডাম স্কাইফের পূর্বাভাস অনুযায়ী:

২০২৬ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প স্তরের চেয়ে ১.৪৬°C বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এটি হবে টানা চতুর্থ বছর যেখানে তাপমাত্রা ১.৪°C-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে।

প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য ছিল উষ্ণতাকে ১.৫°C-এর নিচে রাখা, কিন্তু আমরা এখন সেই সীমানার একেবারে দ্বারপ্রান্তে।

দাবানলের নেপথ্যে আসল কারণ কী?
বেশিরভাগ দাবানল মানুষের অসতর্কতা (যেমন জ্বলন্ত সিগারেট বা ক্যাম্পফায়ার) থেকে শুরু হলেও, প্রচণ্ড তাপ আর শুষ্ক বাতাস একে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। কয়েক হাজার বছরের পুরনো বাস্তুতন্ত্র একবার ধ্বংস হয়ে গেলে তা আর কোনোদিন ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।

বিজ্ঞানীদের নিদান: গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন অনতিবিলম্বে না কমালে এই তাপ এবং আগুন কেবল জীববৈচিত্র্য নয়, মানুষের অস্তিত্বকেও চরম সঙ্কটে ফেলবে।