মরণঝাঁপ নয়, খুন! পোস্তায় যুবক মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার প্রেমিকা শিখা, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

গত ১৬ ডিসেম্বর পোস্তার শিবঠাকুর লেনের সেই রক্তাক্ত ঘটনার রহস্য অবশেষে ভেদ করল পুলিশ। বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার তত্ত্ব খাড়া করলেও, শেষমেশ খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো রাজেন্দ্র ওরফে ভিকি শর্মার বান্ধবী শিখা সিংকে। মৃত যুবকের পরিবারের অভিযোগ ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই শুক্রবার এই পদক্ষেপ নিল পুলিশ।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে?
শিখা সিং প্রাথমিক বয়ানে পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে, ভিকি আচমকা তাঁর ফ্ল্যাটে ঢুকে ছুরি নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। এলোপাথাড়ি কোপ মারার পর ভিকি নিজেই বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। কিন্তু পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য:
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট: ভিকি শর্মার বুকে ও পিঠে একাধিক গভীর ছুরির আঘাত পাওয়া গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজের পিঠে এভাবে আঘাত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
বিপরীত তত্ত্ব: পুলিশের অনুমান, বচসা চলাকালীন শিখাই ক্রমাগত ছুরি দিয়ে ভিকিকে আঘাত করতে থাকেন। যন্ত্রণার চোটে বা ধাক্কা লেগে ভিকি বারান্দা থেকে নীচে পড়ে যান।
অসংগতি: শিখা দাবি করেছিলেন, ভিকি ছুরি হাতে নিয়ে নীচে ঝাঁপ দিয়েছেন। কিন্তু ফ্ল্যাটের বারান্দায় পড়ে থাকা রক্তের নমুনা এবং ভিকির শরীরের জখম সেই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।
পুলিশের চূড়ান্ত পদক্ষেপ
ঘটনার দিন শিখার শরীরেও কোপের চিহ্ন মেলায় প্রাথমিকভাবে তাঁকে ভিকি-র হামলার শিকার বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু মৃত যুবকের বাবার দায়ের করা খুনের মামলা এবং ফরেন্সিক রিপোর্টের পর্যালোচনার পর পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, ঘটনার সময় শিখা ছাড়া ফ্ল্যাটে আর কেউ ছিল না। শুক্রবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় বয়ানে একাধিক অমিল মেলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
পোস্তা থানার পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে এই খুনের নেপথ্যে কেবলই সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল, না কি এর পিছনে কোনো বড় আর্থিক বা ব্যক্তিগত ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে।