৩১ বনাম ৪৩! আসন লড়াইয়ে থমকে বাম-আইএসএফ জোট? আলিমুদ্দিনে আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী হল?

ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে, অথচ জোটের অঙ্ক মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে বাম ও আইএসএফ নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বিমান বসু ও নওশাদ সিদ্দিকীর মধ্যে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা ম্যারাথন বৈঠক শেষেও অমীমাংসিত রয়ে গেল আসন ভাগাভাগির সূত্র। জোট হবে— এটা একপ্রকার নিশ্চিত হলেও, ‘কে ক’টি আসনে লড়বে’ তা নিয়েই এখন ত্রিমুখী লড়াই শুরু হয়েছে বাম শিবিরে।

৩১ বনাম ৪৩: ফর্মুলায় আটকে জোটের চাকা
সূত্রের খবর, এবারের নির্বাচনে দর কষাকষিতে এক চুলও জমি ছাড়তে রাজি নন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।

আইএসএফ-এর দাবি: তারা অন্তত ৪৩ থেকে ৪৪টি আসনে প্রার্থী দিতে চায়।

সিপিএম-এর প্রস্তাব: আলিমুদ্দিনের ম্যানেজাররা ৩১ থেকে ৩২টির বেশি আসন ছাড়তে নারাজ।
এই ১০-১২টি আসনের ব্যবধানই এখন জোটের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অস্তিত্ব রক্ষার সঙ্কটে কাস্তে-হাতুড়ি!
বিপত্তি আরও বেড়েছে দলের অন্দরে। আইএসএফ যে আসনগুলি দাবি করছে, তার অধিকাংশই ঐতিহ্যগতভাবে সিপিএম বা বামফ্রন্টের শরিক দলগুলোর গড়।
১. শরিকি চাপ: ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি-র মতো শরিকরা তাদের জেতা বা লড়া আসন আইএসএফ-কে ছেড়ে দিতে নারাজ।
২. তৃণমূল স্তরের বিদ্রোহ: সিপিএম-এর নিচুতলার কর্মীরা নেতৃত্বকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সব আসন ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে এলাকায় দলের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। কর্মীদের এই ক্ষোভ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতাদের চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে।

তাড়াহুড়ো নওশাদের, দোটানায় বিমান
নওশাদ সিদ্দিকী চান যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার টেবিলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাক। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে আর সময় নষ্ট করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, বিমান বসুদের কাছে চ্যালেঞ্জ হলো— একদিকে নওশাদকে জোটে রাখা আর অন্যদিকে নিজের ঘর এবং শরিকদের শান্ত রাখা।

এই দড়ি টানাটানির খেলায় শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হয়, না কি জোটের আগেই ফাটল ধরে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।