সিপিএম-আইএসএফ জোট কি এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা? বিমান-নওশাদের হাইভোল্টেজ বৈঠকে নয়া অঙ্ক!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই পারদ চড়ছে বাংলার রাজনীতিতে। একদিকে যখন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বাম ও আইএসএফ (ISF) নেতাদের মধ্যে আসন রফা নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে, অন্যদিকে ঠিক তখনই রাজ্যজুড়ে ভোটের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে আজ বড় বৈঠকে বসছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

বিমান-নওশাদ বৈঠক: ৩১ না কি ৪৪?
বাম-আইএসএফ জোট একপ্রকার নিশ্চিত হলেও ‘আসন’ নিয়ে দড়ি টানাটানি এখনও মেটেনি। সূত্রের খবর:

আইএসএফ-এর দাবি: নওশাদ সিদ্দিকীর দল এবার অন্তত ৪৩ থেকে ৪৪টি আসন দাবি করছে।

সিপিএম-এর অবস্থান: বিমান বসুরা ৩১ থেকে ৩২টির বেশি আসন ছাড়তে নারাজ।
এই গাণিতিক সমীকরণ মেলাতেই দফায় দফায় বৈঠকে বসছেন দুই শিবিরের শীর্ষ নেতারা। নওশাদ এবার জোরালো দর কষাকষির পথে হাঁটছেন, যা বামফ্রন্টের অন্দরে যথেষ্ট চাপ তৈরি করেছে।

কমিশনের কড়া নজর: ২ মার্চ কি দিনক্ষণ ঘোষণা?
শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে রাজ্যের সব জেলাশাসক ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠকে বসছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা:
১. এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া: ভোটার তালিকা সংক্রান্ত তথ্য আপলোডের গাফিলতি নিয়ে ইআরও (ERO)-দের ওপর কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে কমিশন।
২. সময়সীমা: আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করার চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

বিশেষ জল্পনা: রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, আগামী ২ মার্চ বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। এবং বিগত কয়েক বছরের ধারা বজায় রেখে এবারও তিন দফায় ভোট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

কেন এই তৎপরতা?
নির্বাচন কমিশন চাইছে কোনোভাবেই যাতে প্রক্রিয়া বিলম্বিত না হয়। ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া বা ভুল সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো দ্রুত মিটিয়ে ফেলে স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়াই এখন কমিশনের পাখির চোখ। একদিকে জোটের জটিলতা আর অন্যদিকে কমিশনের এই তৎপরতা— সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির শেষলগ্নে বাংলার রাজনৈতিক মঞ্চ এখন বারুদের স্তূপে দাঁড়িয়ে।