“বিজেপি করি বলে ঘরের টাকা পাব না?” আলিপুরদুয়ারে বাংলার বাড়ি নিয়ে তুলকালাম, কাঠগড়ায় শাসকদল!

সামনেই ভোট, আর তার ঠিক আগেই আলিপুরদুয়ারের মহাকালগুড়ি অঞ্চলে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বালুবাড়ী গ্রামের এক দরিদ্র মহিলার নাম তালিকা থেকে কেটে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। অভিযোগের তির সরাসরি স্থানীয় প্রশাসনের দিকে।
বিজেপি সমর্থক হওয়াই কি কাল হলো?
গ্রামের বাসিন্দা জয়া রায়ের দাবি, তাঁর সব নথিপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে তালিকা থেকে তাঁর নাম গায়েব হয়ে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “আমি বিজেপি করি এবং এলাকার একটি বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলাম, সেই আক্রোশেই আমার মাথা গোঁজার ছাদটুকু কেড়ে নেওয়া হয়েছে।” জয়া জানান, বিডিও অফিস থেকে অঞ্চল অফিস— সব দরজায় ঘুরেও মেলেনি কোনও সদুত্তর।
দুর্নীতির অভিযোগ বিজেপির, পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি
খবর পেয়েই জয়া রায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা বিজয় দেবনাথ। তাঁর দাবি:
মহাকালগুড়ি অঞ্চলে অন্তত ২৫–৩০ জন প্রতিবাদী মানুষের নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
যাঁদের পাকা বাড়ি বা ছাদ রয়েছে, তাঁদের নাম তালিকায় তোলা হয়েছে।
তালিকা কেন প্রকাশ্যে দেওয়ালে টাঙানো হচ্ছে না, সেই নিয়ে প্রধানকে চ্যালেঞ্জও করেছেন তিনি।
বিজয় দেবনাথের হুঁশিয়ারি, “ডিএম অফিস ঘেরাও করে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব আমরা।”
তৃণমূলের পাল্টা যুক্তি: ‘বঞ্চনা নয়, সবাই পাচ্ছে সুবিধা’
তৃণমূলের মহাকালগুড়ি অঞ্চলের উপপ্রধান মদন দাস এই সমস্ত অভিযোগ ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর পাল্টা দাবি:
বিরোধীদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ওই এলাকায় বিজেপি সমর্থকদেরও ঘর দেওয়া হয়েছে।
জয়া রায় যদি সত্যিই যোগ্য হন, তবে বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেন্দ্র টাকা না দিলেও মুখ্যমন্ত্রী নিজের তহবিল থেকে বাংলার বাড়ি প্রকল্প সচল রেখেছেন।
অঞ্চল জুড়ে এখন একটাই আলোচনা— রাজনীতির লড়াইয়ের মাঝে পড়ে কি জয়া রায়ের মতো সাধারণ মানুষের ‘নিজের বাড়ির’ স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে? মহাকালগুড়ির এই জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।