৩০ কোটি বছরের রহস্য ফাঁস! পৃথিবীর প্রথম ‘নিরামিষাশী’ প্রাণীর খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা, পাল্টে যাবে ইতিহাস?

বিবর্তনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হলো। আমরা জানি, পৃথিবীর বুকে প্রাণের স্পন্দন প্রথম জেগেছিল জলে। জল থেকেই ধীরে ধীরে প্রাণীরা ডাঙ্গায় উঠে আসে। বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণা ছিল, শুরুর দিকে ডাঙ্গায় উঠে আসা সব প্রাণীই ছিল মাংসাশী। কিন্তু সেই ধারণা এবার আমূল বদলে দিল ৩০ কোটি ৭০ লক্ষ বছর আগের এক প্রাচীন জীবাশ্ম।
কোথায় এবং কীভাবে মিলল এই অমূল্য সম্পদ?
কানাডার নোভা স্কোটিয়া (Nova Scotia) প্রদেশে পাওয়া গিয়েছে এই আদিম প্রাণীর চিহ্ন। একটি বিশাল গাছের গুঁড়ির নিচের অংশে সংরক্ষিত ছিল এই প্রাণীর মস্তিষ্কের জীবাশ্ম। দীর্ঘ কয়েক লক্ষ বছর ধরে প্রকৃতির কোলে সযত্নে রাখা এই হাড়ের টুকরোটিই এখন আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
নাম তার ‘টাইরানোরোটার হেবার্টি’ (Tyranorotor heberti)
বিজ্ঞানীরা এই নতুন আবিষ্কৃত প্রাণীর নাম রেখেছেন টাইরানোরোটার হেবার্টি। এটিই এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত পৃথিবীর প্রাচীনতম নিরামিষভোজী বা তৃণভোজী স্থলচর প্রাণী। এর আগে বিজ্ঞানীরা ডাঙ্গায় বিচরণ করা যে প্রাণীকে প্রথম নিরামিষাশী বলে জানতেন, তার চেয়েও কয়েক লক্ষ বছর বেশি পুরনো এই টাইরানোরোটার।
কেন এই আবিষ্কার এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিবর্তনের নতুন মোড়: এটি প্রমাণ করে যে, স্থলভাগে প্রাণের বিস্তারের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণীরা তাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে শুরু করেছিল।
মাংসাশী থেকে নিরামিষাশী: এতদিন মনে করা হতো গাছপালা বা ঘাস খাওয়ার ক্ষমতা অর্জন করতে প্রাণীদের অনেক বেশি সময় লেগেছে। কিন্তু এই আবিষ্কার বলছে অন্য কথা।
আন্তর্জাতিক আলোড়ন: বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী এবং সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই খবরটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বিজ্ঞানীরা এখন এই জীবাশ্মটি নিয়ে আরও গভীর গবেষণায় মগ্ন। তাঁদের লক্ষ্য, কীভাবে এই প্রাণীটি সেই আদিম পৃথিবীতে টিকে ছিল এবং এদের হাত ধরেই কীভাবে আধুনিক তৃণভোজী প্রাণীদের বিবর্তন শুরু হয়েছিল তা উদঘাটন করা।