আপনার একটি ভিডিওই ডেকে আনতে পারে বিপদ! ডিপফেকের জালে তছনছ হতে পারে জীবন, বাঁচার উপায় কী?

অনলাইনে দেখা সব ভিডিও বা শোনা সব অডিও এখন আর সত্যি নয়! আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI ব্যবহার করে তৈরি ‘ডিপফেক’ এখন সাইবার দুনিয়ার সবথেকে বড় মাথাব্যথার কারণ। সম্প্রতি ভিআইটি বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘দ্য হিন্দু টেক সামিট ২০২৬’-এ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ডিপফেক জালিয়াতি যে হারে বাড়ছে, তা রুখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতাই এখন একমাত্র ঢাল।

সস্তায় জালিয়াতি: বিপদে আপনার পরিচয়!
সাউদারল্যান্ডের ডিরেক্টর বিনোদ আর-এর মতে, AI ব্যবহার করে এখন অত্যন্ত কম খরচে এবং দ্রুত যে কারও পরিচয় জাল করা সম্ভব। বিশেষ করে ভিডিও কলে পরিচিতর মুখ বসিয়ে বা হুবহু গলা নকল করে টাকা হাতানোর ছক কষছে জালিয়াতরা। তবে এই অন্ধকার পথেও আশার আলো দেখাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি।

ডিপফেক চেনার সহজ উপায় ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ:
আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন:

একাধিক সংকেত যাচাই: শুধুমাত্র একটি ছবি বা ভিডিও দেখে বিশ্বাস করবেন না। ভিডিওর মান, চোখের পলক পড়ার ধরণ বা গলার স্বরের অস্বাভাবিকতা খেয়াল করুন।

মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (MFA): ব্যাঙ্কিং বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পাসওয়ার্ড নয়, বরং টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

সক্রিয় নজরদারি: সংস্থাগুলিকে AI-কে ভয় না পেয়ে বরং AI-কে ব্যবহার করেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

ব্যাঙ্কিং খাতে কড়া নিরাপত্তা
এপিমনি প্রাইভেট লিমিটেডের আধিকারিক বালাজি টি কে জানান, আসল কনটেন্টের চেয়ে এখন ডিপফেক কনটেন্ট বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। তাই ব্যাঙ্কগুলি এখন অপরিচিত উৎস থেকে আসা তথ্যের বিষয়ে গ্রাহকদের সতর্ক করছে। কোনো ভিডিও কল বা মেসেজে আর্থিক লেনদেনের অনুরোধ এলে তা অন্য মাধ্যমে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

মানুষের হস্তক্ষেপই শেষ কথা
বিশেষজ্ঞরা একমত যে, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মানুষের বিচারবুদ্ধির বিকল্প নেই। কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নিয়মিত সিকিউরিটি অডিট করার মাধ্যমেই এই ডিজিটাল মহামারি রুখে দেওয়া সম্ভব।

টিভিএস মোবিলিটির আইটি প্রধান মঞ্জুনাথ প্রসাদের কথায়, “AI যত স্মার্ট হচ্ছে, আমাদেরও ততটাই আপগ্রেড হতে হবে।” অর্থাৎ, প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে সচেতন থাকাই এখন বাঁচার একমাত্র পথ।