হঠাৎ সোনা, রুপোর দামে বিরাট পতন, জেনেনিন এখন কী করবেন?

আপনি কি সোনা বা রুপো কেনার পরিকল্পনা করছেন? তবে আজকের খবরটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারের অস্থিরতার প্রভাবে ভারতীয় বাজারে সোনা ও রুপোর দামে এক বিশাল ধস নেমেছে। বৃহস্পতিবার রাতেই মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) যে পতন শুরু হয়েছে, তা শুক্রবারও বাজারকে উত্তাল করে রেখেছে। এক ধাক্কায় সোনার দাম কমেছে প্রায় ৬,৫০০ টাকা এবং রুপোর দামে দেখা গেছে ২৬,০০০ টাকার অভাবনীয় পতন।

কেন এই বিশাল পতন?
আচমকা এই দাম কমার নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকার কিছু অর্থনৈতিক তথ্য।

বেকারত্বের তথ্য: আমেরিকার শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক তথ্য সামনে আসতেই মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে।

সুদের হার নিয়ে ধোঁয়াশা: মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাবে বলে যে আশা করা হয়েছিল, তাতে জল ঢেলে দিয়েছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান।

প্রফিট বুকিং: আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপোর দাম একসময় আকাশছোঁয়া হয়ে যাওয়ায় বড় বিনিয়োগকারীরা এখন মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেছেন (Profit Booking), যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে।

আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থা (১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপোর দাম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আমেরিকার বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্সে প্রায় ২.৩% থেকে ২.৮% পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে রুপোর দাম পড়েছে প্রায় ৮.৮%। বিশ্ববাজারের এই ‘লিকুইডিটি ফ্লাশ’-এর ফলে ভারতের এমসিএক্স (MCX) মার্কেটেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

এক নজরে নতুন দাম (ভারতের বাজারে):
সোনা (এপ্রিল গোল্ড ফিউচার): প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ৬,৪৫৫ টাকা কমে দাম নেমে এসেছে ১,৫২,৩০০ টাকার ঘরে।

রুপো (মার্চ ফিউচার): প্রতি কেজিতে প্রায় ২৫,৮৮২ টাকা বা ৯.৮৪% কমে দিনের শেষে দাম দাঁড়িয়েছে ২,৩৭,১৩৭ টাকা।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: এখন কি বিনিয়োগের সঠিক সময়?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের (Long-term investment) ক্ষেত্রে সোনা এখনও ভরসাযোগ্য। বর্তমানের এই দরপতনকে অনেকে ‘বাইন অন ডিপস’ (দাম কমলে কেনা) হিসেবে দেখছেন। তবে বাজারে অস্থিরতা এখনও বজায় থাকায় কোনো বড় বিনিয়োগের আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বি.দ্র: এই প্রতিবেদনটি কেবলমাত্র তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে। সোনা বা রুপো কেনা বা কোনো আর্থিক বিনিয়োগের আগে নিজের গবেষণা করুন এবং বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলুন।