ভোটের রেজাল্ট বেরোতেই বাংলাদেশে হিন্দুর বাড়িতে আগুন,জেনেনিন কী পরিস্থিতি?

ওপার বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল। দীর্ঘ ১৭ বছর পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে যখন নতুন ভোরের অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ, ঠিক তখনই মাথাচাড়া দিচ্ছে সাম্প্রদায়িক হিংসার পুরনো ক্ষত। একদিকে বাংলাদেশের ভাবি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গণতন্ত্রের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, অন্যদিকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এক হিন্দু ব্যক্তির বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ছড়িয়েছে তীব্র আতঙ্ক।
ভোটের ফলাফল বেরোতেই তাণ্ডব
ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার দেবীপুর বেনিয়াপাড়া গ্রামে। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই একদল দুষ্কৃতী চড়াও হয় বিমলচন্দ্র রায় নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে। অভিযোগ, বিমলবাবুর বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা। মুহূর্তের মধ্যে লেলিহান শিখা গ্রাস করে পুরো বাড়িটি। দুষ্কৃতীদের এই তাণ্ডবে কয়েক লক্ষ টাকার সম্পত্তি ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
আক্রান্তের পাশে বিএনপি, নিরব জামাত?
হামলার খবর পেয়েই রাতেই আক্রান্ত পরিবারের সাথে দেখা করতে যান স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন:
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম।
পৌর বিএনপির সভাপতি আমিরুল বাহার।
নিজপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস।
তবে এই ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি বিশেষ অনুপস্থিতি। বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও, স্থানীয় জামায়াত-ই-ইসলামী-র কোনো নেতাকে সেখানে দেখা যায়নি। ফলে জনমনে প্রশ্ন দানা বাঁধছে—এই হামলার নেপথ্যে কি তবে জামায়াতের কোনো ইন্ধন রয়েছে?
সম্পাদকীয় নোট: বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরানোর প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। মোদী-তারেক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণের মাঝে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা নতুন সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।