বাড়ির চৌকাঠে কেন রাত কাটায় আপনার পোষ্য? রহস্য জানলে চমকে যাবেন!

যারা বাড়িতে কুকুর পোষেন, তারা প্রায়ই লক্ষ্য করেন যে তাদের আদরের পোষ্যটি ঘরের মাঝখানে নরম বিছানা ছেড়ে দরজার সামনে বা চৌকাঠে শুতে বেশি পছন্দ করে। অনেকে ভাবেন এটি হয়তো স্রেফ অভ্যাসবশত, কিন্তু প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক এবং বিবর্তনীয় কারণ। কেন আপনার চারপেয়ে বন্ধুটি দরজাকেই নিজের শোয়ার প্রিয় জায়গা হিসেবে বেছে নেয়? রইল বিস্তারিত তথ্য।
১. সহজাত রক্ষাকর্তার ভূমিকা (Guarding Instinct): কুকুর জন্মগতভাবেই প্যাক বা দলবদ্ধ প্রাণী। প্রাচীনকাল থেকেই তারা তাদের দলকে রক্ষা করার জন্য প্রবেশপথে নজর রাখত। আজও তাদের সেই আদিম প্রবৃত্তি রয়ে গেছে। দরজার কাছে ঘুমানোর অর্থ হলো সে নিজেকে পরিবারের ‘বডিগার্ড’ মনে করে। অপরিচিত কেউ ঘরে ঢুকতে চাইলে বা বাইরে কোনো সন্দেহজনক শব্দ হলে সে যেন সবার আগে সজাগ হতে পারে, তাই এই কৌশলগত অবস্থান।
২. আপনার আগমনের অপেক্ষা: কুকুর তার মালিকের সাথে সবসময় সংযুক্ত থাকতে চায়। দরজার সামনে শুয়ে থাকলে সে সহজেই টের পায় আপনি কখন বাড়ি ফিরছেন বা কখন বেরোচ্ছেন। আপনার পায়ের শব্দ বা চাবির আওয়াজ তাদের কানে সবার আগে পৌঁছায়, যা তাদের এক ধরণের মানসিক তৃপ্তি দেয়। এটি মূলত তাদের আনুগত্য ও ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।
৩. পরিবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ: দরজার কাছ থেকে বাড়ির ভেতরের ও বাইরের—উভয় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা সহজ হয়। এটি তাদের এক ধরণের নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়। এছাড়া অনেক সময় লক্ষ্য করা যায় যে দরজার ফাঁক দিয়ে আসা হাওয়া ঘরের অন্য প্রান্তের চেয়ে বেশি আরামদায়ক বা ঠান্ডা হয়, যা তাদের নির্বিঘ্ন ঘুমের জন্য সহায়ক।
সতর্কতা যখন জরুরি: তবে সব সময় দরজার কাছে শোয়া স্বাভাবিক না-ও হতে পারে। যদি দেখেন আপনার পোষ্যটি অতিরিক্ত অস্থির হয়ে দরজার কাছে থাকছে কিংবা আপনি বেরোনোর সময় সে অস্বাভাবিক আচরণ করছে, তবে তা ‘সেপারেশন অ্যাংজাইটি’ (Separation Anxiety) বা বিচ্ছেদজনিত উদ্বেগের লক্ষণ হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।