ধূপগুড়িতে রঙের যুদ্ধ! নীল-সাদা মুছে পঞ্চায়েত হলো ‘গেরুয়া’, রণক্ষেত্র গাদং ২!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে না বাজতেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে পারদ চড়ছে। এবার ইস্যু— সরকারি ভবনের রং। ধূপগুড়ির গাদং ২ গ্রাম পঞ্চায়েত চত্বর বুধবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। সৌজন্যে, নীল-সাদা বনাম গেরুয়া শিবিরের আধিপত্যের লড়াই। বিজেপি পরিচালিত এই পঞ্চায়েত অফিসের রং বদলে গেরুয়া করাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাপক বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।

ঘটনার সূত্রপাত: রাজ্যের সরকারি ভবনগুলির জন্য নির্ধারিত থিম নীল-সাদা। অভিযোগ, গাদং ২ গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ গতকাল থেকে সেই রং মুছে পুরো ভবনটি গেরুয়া করার কাজ শুরু করে। বুধবার সকালে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের দাবি, রাজ্যের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই এই গেরুয়া রঙের ব্যবহার করা হচ্ছে।

তৃণমূলের অবরোধ ও তালাবন্দি: বিক্ষোভের জেরে পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায়। তৃণমূল কর্মীরা পঞ্চায়েত অফিসের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর ধূপগুড়ি-ফালাকাটাগামী রাজ্য সড়ক অবরোধ করা হয়। দীর্ঘক্ষণ অবরোধের জেরে ব্যস্ততম এই রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। শেষ পর্যন্ত আইসি এবং স্থানীয় ব্লক তৃণমূল সভাপতির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে অবরোধ ওঠে। তবে বিজেপি নেতা আগুন রায়ের পাল্টা দাবি, রঙের ব্যবহার নিয়ে তৃণমূল অযথা রাজনীতি করছে।

তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন: ধূপগুড়ির এই উত্তেজনার মধ্যেই পাশের ব্লক মেখলিগঞ্জে বড়সড় ধাক্কা খেল শাসক দল। বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা হোসেন দলত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। শুধু তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন জেলা কমিটির সদস্য স্বপ্না বসাক এবং জামালদহ অঞ্চল যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতি পবিত্র রায় লস্কর। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ‘গণ ইস্তফা’ কোচবিহারের রাজনৈতিক সমীকরণকে যেমন ওলটপালট করে দিয়েছে, তেমনই কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।