কড়া প্রহরায় শুরু হলো ২০২৬-এর উচ্চ মাধ্যমিক; তিন স্তরের পরীক্ষার্থীর ভিড়ে নজরদারিতে সিসিটিভি ও মেটাল ডিটেক্টর

২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মহারণ শুরু হলো আজ থেকে। রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৮১১ জন পরীক্ষার্থী এই মেগা পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এ বছর ছাত্রীদের সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় প্রায় ৭৯ হাজার বেশি। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিন ধরনের পরীক্ষার্থীর ভিড়: এবারের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে এক অনন্য চিত্র দেখা যাচ্ছে। একই কেন্দ্রে তিন ধরনের পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন— উচ্চ মাধ্যমিকের চতুর্থ সেমিস্টার, তৃতীয় সেমিস্টারের সাপ্লিমেন্টারি এবং পুরনো সিলেবাসের পরীক্ষার্থীরা। এই বৈচিত্র্য সামলাতে সংসদ বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে।

নজরদারিতে বড় বদল: পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারির জন্য প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রয়োজন ছিল। রাজ্যে শিক্ষকের আকাল মেটাতে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। শুধুমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক নয়, বরং প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকদেরও এবার গার্ড দেওয়ার বা পরিদর্শনের দায়িত্বে রাখা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি জেলাতেই বহিরাগত শিক্ষকদের দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা ও কড়াকড়ি: সংসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ বা যেকোনো ইলেকট্রনিক গ্যাজেট আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নকল রুখতে মেটাল ডিটেক্টর এবং প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রশ্নপত্র বিতরণের ১০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ করতে হবে।

প্রথম দিনেই আতঙ্ক: পরীক্ষার প্রথম দিনেই বাঁকুড়া টাউন গার্লস হাইস্কুলে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পরপরই এক পরীক্ষার্থী অস্বাভাবিকভাবে কাঁপতে শুরু করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় তাঁকে দ্রুত বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনা বাদে রাজ্যের বাকি অংশে পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবেই শুরু হয়েছে।