ল্যাম্বরগিনি কাণ্ডে নয়া মোড়: পুলিশের জালে তামাক রাজপুত্র শিবম, ‘ড্রাইভার ড্রামা’র পর্দাফাঁস!

কানপুরের ভিআইপি রোডে ১০ কোটি টাকার ল্যাম্বরগিনি নিয়ে তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হলেন মূল অভিযুক্ত শিবম মিশ্র। গত রবিবার বিকেলের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর থেকেই শিবমকে আড়াল করার চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ। ল্যাম্বরগিনির স্টিয়ারিং কার হাতে ছিল— শিবম না কি তাঁর চালক? এই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে বিখ্যাত তামাক ব্যবসায়ী কে.কে. মিশ্রের ছেলেকে হেফাজতে নিয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষার পর তাঁকে শীঘ্রই আদালতে পেশ করা হবে।
ভয়াবহ সেই রবিবারের বিকেল: গত ৮ ফেব্রুয়ারি কানপুরের ব্যস্ত ভিআইপি রোডে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা ল্যাম্বরগিনিটি একের পর এক পথচারীকে ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়ির ধাক্কায় একজন বাইক আরোহী ফুটবলার মতো প্রায় ১০ ফুট উঁচুতে ছিটকে পড়েছিলেন। এই ঘটনায় মোট ৬ জন গুরুতর আহত হন। তৌফিক নামে এক যুবক সহ অন্যান্য আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনতা গাড়িটিকে ঘিরে ধরলে শিবমের দেহরক্ষীরা তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, যা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
ড্রাইভার তত্ত্ব খারিজ পুলিশের: মঙ্গলবার শিবমের আইনজীবী দাবি করেছিলেন যে, দুর্ঘটনার সময় শিবম নয়, বরং তাঁদের পরিবারের এক চালক গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। এমনকি মোহন নামের এক ব্যক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করে দায় স্বীকারের চেষ্টাও করেন। কিন্তু কানপুর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয় যে, চালকের আসনে খোদ শিবম মিশ্রই ছিলেন। ডিজিটাল এভিডেন্স এবং ফরেন্সিক রিপোর্টের চাপে শেষ পর্যন্ত তামাক রাজপুত্রের ‘ড্রাইভার ড্রামা’ টেকেনি। পুলিশ ল্যাম্বরগিনিটিকে আগেই বাজেয়াপ্ত করেছিল, এবার মূল অভিযুক্তকেও শ্রীঘরে পাঠাল।