জন্মের ২ দিন আগেই বার্থ সার্টিফিকেট! ২০ বছরে ১০ সন্তান! ভোটার তালিকায় এ কী ‘ভৌতিক’ কাণ্ড?

ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন ও নথির চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের। বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার (এসআইআর) শেষ পর্যায়ে নথি ঝাড়াই-বাছাই করতে গিয়ে সামনে এল এমন সব তথ্য, যা শুনে রীতিমতো তাজ্জব সাধারণ মানুষ। কোথাও জন্মের আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছে বার্থ সার্টিফিকেট, আবার কোথাও ২০ বছরের ব্যবধানে জন্ম হয়েছে ১০ সন্তানের! এমনকি নথিতে দুই সন্তানের বয়সের ব্যবধান দেখানো হয়েছে মাত্র এক মাস।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বরানগরের এক ভোটারের নথিতে দেখা যাচ্ছে তাঁর জন্ম ১৯৯৩ সালের ৬ মার্চ। অথচ তাঁর জন্ম শংসাপত্র বা বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করার তারিখ দেওয়া আছে ৪ মার্চ! অর্থাৎ জন্মের দু’দিন আগেই শংসাপত্র প্রস্তুত। অন্যদিকে, কলকাতার মেটিয়াবুরুজের এক ভোটারের ক্ষেত্রে দাবি করা হয়েছে যে তাঁর ২০ বছরে ১০টি সন্তান হয়েছে। নথির অসঙ্গতি এতটাই প্রকট যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুই সন্তানের জন্মের ফারাক দেখানো হয়েছে মাত্র ৩০ দিন।
বর্তমানে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর এই ‘ভৌতিক’ নথির রহস্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই এসআইআর (SIR) শুনানি চলবে এবং ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমস্ত নথির স্ক্রুটিনি শেষ করা হবে। এই গরমিলগুলি সংশোধন করে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। প্রশ্ন উঠছে, এই ভুলগুলি নিছক যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি ভোটার তালিকায় নাম তোলার কোনো বড়সড় কারচুপি?