বেলডাঙা কাণ্ডে NIA-কে ‘অসহযোগিতা’ পুলিশের? ৩৬ অভিযুক্তকে আদালতে না তোলায় তুঙ্গে বিতর্ক!

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা হিংসা মামলার তদন্তে এনআইএ-র (NIA) মুখোমুখি হতে গিয়ে ফের নতুন করে জটিলতা তৈরি হলো। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ৩৬ জন অভিযুক্তকে সশরীরে এনআইএ বিশেষ আদালতে পেশ করতে ব্যর্থ হলো মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, রাজ্যে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ায় পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা সম্ভব হয়নি। এই যুক্তিতেই বহরমপুর জেল কর্তৃপক্ষ আদালতের কাছে অভিযুক্তদের ভার্চুয়ালি পেশ করার আবেদন জানায়।

উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়, এর আগেও বেলডাঙা কাণ্ডের অভিযুক্তদের এনআইএ আদালতে সশরীরে হাজির করানো যায়নি। বারবার এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গোয়েন্দাদের একাংশের দাবি, রাজ্য পুলিশ কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে অসহযোগিতা করছে। অথচ গত ১১ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টেও বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য সরকার। বেলডাঙা হিংসার তদন্তভার এনআইএ-র হাত থেকে সরানোর যে আবেদন রাজ্য জানিয়েছিল, তা খারিজ করে দেয় দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তদন্তভার এনআইএ-র হাতেই থাকবে। পাশাপাশি, ইউএপিএ (UAPA) ধারা প্রয়োগের বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত জানুয়ারি মাসে। ঝাড়খণ্ডে আলাউদ্দিন শেখ নামে এক ফেরিওয়ালার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। গুজব ছড়ায় যে তাঁকে খুন করা হয়েছে, যদিও পরে তদন্তে জানা যায় মৃত্যুর কারণ ভিন্ন ছিল। কিন্তু ততক্ষণে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। বেলডাঙা স্টেশনের সিগন্যাল ভাঙচুর, রেললাইনে বাঁশ ফেলে অবরোধ এবং ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় বিক্ষোভকারীরা। এমনকি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হন একাধিক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিকরা। এই হিংসার ঘটনায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্র চাইলে এনআইএ তদন্ত করতে পারে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত শুরু হলেও বারবার পরিকাঠামোগত অজুহাতে অভিযুক্তদের আদালতে পেশ না করা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।