পাকিস্তানে পিরিয়ড পোভার্টি: স্যানিটারি প্যাড কি বিলাসিতা? শাহবাজ সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মহিলারা

পাকিস্তানে ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড নিয়ে দীর্ঘ কয়েক দশকের নীরবতা ভেঙে এবার শুরু হয়েছে এক নজিরবিহীন আইনি লড়াই। ইসলামাবাদ-ভিত্তিক আইনজীবী মাহনূর ওমর এবং তার সহকর্মী আহসান জাহাঙ্গীর খান শাহবাজ সরকারের কর নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। বিলাসদ্রব্য হিসেবে গণ্য করে স্যানিটারি প্যাডের ওপর ৪০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ কর আরোপের বিরুদ্ধে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই আন্দোলন এখন আর কেবল একটি মামলা নয়, বরং পাকিস্তানের নারীদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

পিরিয়ড পোভার্টি বা ঋতুস্রাবজনিত দারিদ্র্য কী? সহজ কথায়, ঋতুস্রাবের সময় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর পণ্য (স্যানিটারি প্যাড বা সাবান) কেনার সামর্থ্য না থাকাকেই ‘পিরিয়ড পোভার্টি’ বলা হয়। ইউনিসেফের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাত্র ১২ শতাংশ মহিলার বাণিজ্যিক স্যানিটারি পণ্য ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। বাকি বিপুল সংখ্যক মহিলা সস্তা কিন্তু অত্যন্ত অনিরাপদ বিকল্প যেমন পুরনো কাপড়, কাদা বা বালি ব্যবহার করতে বাধ্য হন।

আদালতে মামলার মূল কারণ: আবেদনকারী মাহনূর ওমরের মতে, ১৯৯০ সালের বিক্রয় কর আইনের ফলে স্থানীয় প্যাডে ১৮% এবং আমদানিকৃত প্যাডে ২৫% শুল্ক দিতে হয়। অন্যান্য কর মিলিয়ে এই বোঝা ৪০% ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে ১০টি প্যাডের একটি প্যাকেটের দাম ৪০০ থেকে ৪৮৫ পাকিস্তানি রুপি, যা সেদেশের সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। কারণ, পাকিস্তানের প্রায় ৪৫% মানুষের দৈনিক আয় ১,১৭৫ টাকারও কম। এর ফলে প্রতি পাঁচজন ছাত্রীর মধ্যে একজন প্রতি মাসে স্কুল কামাই করতে বাধ্য হয়।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সামাজিক ট্যাবু: পাকিস্তানে পিরিয়ড নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার এতটাই গভীর যে, অনেক কিশোরী প্রথমবার ঋতুস্রাব হলে একে ক্যানসারের মতো মারণ রোগ মনে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। গাইনোকোলজিস্ট ডাঃ আজরা আহসানের মতে, সঠিক তথ্যের অভাবে এবং স্যানিটারি পণ্যের অভাবে মহিলারা সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ত্রাণ শিবিরে থাকা নারীরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করেন। ভারত ও নেপালের মতো পাকিস্তানও যাতে স্যানিটারি পণ্যকে ‘প্রয়োজনীয় পণ্য’ ঘোষণা করে এবং করমুক্ত করে, সেই দাবিই এখন জোরালো হচ্ছে আদালতে।