ঠাকুমার ঝুলিতেই ভাগ্য বদল! ভেষজ ওষুধ তৈরি করে স্বনির্ভর গোন্ডার মালতী দেবী, চিকিৎসা নিচ্ছেন দূর-দূরান্তের রোগীরা

স্নাতক হয়েও একসময় চার দেওয়ালের মাঝে গৃহবধূ হিসেবেই দিন কাটত মালতী ভার্মার। কিন্তু আজ তাঁর পরিচয় একজন সফল আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বা ‘বৈদ্য’ হিসেবে। উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলার এই মহিলা প্রথাগত ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহার করে তৈরি করছেন ভেষজ ওষুধ, যা কেবল মানুষের রোগ সারাচ্ছে না, তাঁকে দিচ্ছে আর্থিক স্বচ্ছলতাও।
সাফল্যের নেপথ্যে ‘দাদি মা কা বটুয়া’: মালতী দেবীর এই যাত্রার শুরু ‘দীনদয়াল গবেষণা ইনস্টিটিউট’-এর “দাদি মা কে বটুয়া” (ঠাকুরমার ঝুলি) প্রোগ্রামের মাধ্যমে। সেখান থেকেই তিনি ভেষজ চেনা এবং তা থেকে রাসায়নিকমুক্ত ওষুধ তৈরির প্রশিক্ষণ নেন। গত এক বছর ধরে তিনি নিজের বাড়িতেই একটি ছোট ক্লিনিক চালাচ্ছেন। তুলসী, গিলয়, অশ্বগন্ধা, আমলা ও নিম—নিজের বাগানে জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা এই সব ভেষজ দিয়েই তিনি তৈরি করেন পাউডার ও ক্বাথ।
রোগীদের ভরসা: মালতী দেবীর চিকিৎসার খ্যাতি এখন কেবল গোন্ডাতেই সীমাবদ্ধ নেই; বলরামপুর, বাহরাইচ ও শ্রাবস্তী থেকেও রোগীরা তাঁর কাছে আসছেন। পেটের সমস্যা থেকে শুরু করে দীর্ঘদিনের ক্রনিক অসুখ—অ্যালোপ্যাথিতে কাজ না হওয়া রোগীরা মালতীর আয়ুর্বেদিক দাওয়াইয়ে উপশম পাচ্ছেন। কন্যাবতী নামে এক রোগী জানান, “অনেক অ্যালোপ্যাথি ওষুধ খেয়েও পেটের সমস্যায় আরাম পাইনি, কিন্তু মালতী দেবীর ভেষজ চিকিৎসায় এখন আমি সম্পূর্ণ সুস্থ।”