বালুচিস্তান হাত ছাড়া হয়েই যাচ্ছে পাকিস্তানের? খোদ প্রাক্তন CM যা বললেন

পাকিস্তানের বুক চিরে জন্ম নিতে চলেছে আরও একটি স্বাধীন রাষ্ট্র? ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের সেই স্মৃতি উসকে দিয়ে এবার সরাসরি পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার ডাক দিলেন বালুচিস্তানের হেভিওয়েট নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আখতার মেঙ্গল। সোমবার লাহোরে ‘আসমা জাহাঙ্গীর কনফারেন্স’-এ পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহর উপস্থিতিতেই এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।
ভরা সভায় বোমা ফাটালেন মেঙ্গল
জাতীয় পরিষদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা এই বালোচ নেতা সাফ জানান, পাকিস্তান আর বালুচিস্তান এখন তেলের আর জলের মতো— যারা কোনোদিন মিশবে না। মেঙ্গলের ভাষায়, “বালুচিস্তান এবং পাকিস্তান আর একসাথে থাকতে পারে না। আলাদা হয়ে যাওয়াই এখন একমাত্র সম্মানজনক পথ।” তিনি আরও যোগ করেন, শত্রু হিসেবে নয়, বরং প্রতিবেশী হিসেবে শান্তিতে থাকাই শ্রেয়।
ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি
কেন এই চরম সিদ্ধান্ত? আখতার মেঙ্গল স্পষ্ট করেছেন যে, বছরের পর বছর ধরে ইসলামাবাদ বালোচ জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাঁর অভিযোগের তালিকায় রয়েছে:
-
সেনার দাপাদাপি: উপত্যকায় সাধারণ মানুষের ওপর পাক সেনার নির্মম দমন-পীড়ন।
-
অধিকার হরণ: বালুচিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তম এবং খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ প্রদেশ হওয়া সত্ত্বেও সেখানকার মানুষ চরম অবহেলিত।
-
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ: বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরিকাঠামো বা উন্নয়নের নামগন্ধ নেই।
মেঙ্গল সরাসরি তোপ দেগে বলেন, বালুচিস্তানের এই অস্থিরতার জন্য কোনো ‘বিদেশি শক্তি’ নয়, বরং পাকিস্তান সরকারই দায়ী।
৭১-এর স্লোগানে কাঁপল পাকিস্তান
এদিন ভাষণে মেঙ্গল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত বিখ্যাত স্লোগান ‘ইহা হাম সহি, বহা তুম সহি’ (এখানে আমরাই ঠিক, ওখানে তোমরাই ঠিক) আওড়ান। এই একটি বাক্যেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশের মতোই বালুচিস্তানও এখন স্বাধীনতার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।
চাপে শাহবাজ সরকার
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে ভূমিকম্প ঘটিয়ে দিয়েছে। কারণ, মেঙ্গল কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সাধারণ সদস্য নন, বরং তিনি বালুচিস্তানের মূলধারার রাজনীতির এক শক্তিশালী মুখ। লাহোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে দাঁড়িয়ে তাঁর এই ‘বিচ্ছেদ’ বার্তা শাহবাজ শরিফ সরকারের জন্য বড়সড় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খনিজ সম্পদে ঠাসা বালুচিস্তান হাতছাড়া হলে পাকিস্তান যে কার্যত দেউলিয়া হয়ে যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার, দমন-পীড়ন বাড়িয়ে এই বিদ্রোহ রোখার চেষ্টা করে ইসলামাবাদ, নাকি মাথা নত করতে হয় মেঙ্গলের জেদের কাছে।