নিষিদ্ধ হয়েও কমেনি দাপট! মহিলাদের নিয়ে নতুন ‘উইং’ খুলল জইশ প্রধান, UNSC-র রিপোর্টে কপালে চিন্তার ভাঁজ

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক কড়াকড়ি এবং দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক চাপ—সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জঙ্গি সংগঠনগুলো। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) সাম্প্রতিক এক মনিটরিং রিপোর্টে এই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) কেবল সক্রিয়ই নয়, বরং তারা বড়সড় এবং উচ্চ-প্রভাবশালী হামলার পরিকল্পনা করার ক্ষমতাও রাখে।
৪ ফেব্রুয়ারি জমা দেওয়া রাষ্ট্রসংঘের ৩৭তম রিপোর্টে অন্তত একজন সদস্য রাষ্ট্রের মূল্যায়ন উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, জইশ এখনও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। রিপোর্টে গত ৯ নভেম্বর, ২০২৫-এ দিল্লির লালকেল্লার কাছে হওয়া সন্দেহভাজন আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলার প্রসঙ্গ টানা হয়েছে, যাতে ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। একটি সদস্য রাষ্ট্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলার নেপথ্যে জইশের হাত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যদিও রাষ্ট্রসংঘ জানিয়েছে, এটি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের নিজস্ব মূল্যায়ন, রাষ্ট্রসংঘের স্বাধীন কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
রিপোর্টে আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। জইশ প্রধান মাসুদ আজহার গত ৮ অক্টোবর, ২০২৫-এ ‘জামাত উল-মুমিনাত’ নামে একটি নতুন শাখা গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, যা মূলত নারীদের নিয়ে গঠিত। গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়াতে জইশ এখন ঘনঘন হামলার বদলে কৌশলী এবং বড় ধরনের নাশকতার দিকে ঝুঁকছে। তাদের লক্ষ্য এখন দীর্ঘমেয়াদী টিকে থাকা এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠন। দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের এই নতুন রূপ এখন বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।