আবারও বাধা! বেলডাঙা কাণ্ডে ৩৬ অভিযুক্তকে কেন আদালতে পেশ করল না পুলিশ? বিস্ফোরক কারণ প্রকাশ্যে!

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা মামলায় ফের চাঞ্চল্য। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-এর বিশেষ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, ৩৬ জন অভিযুক্তকে আদালতে সশরীরে পেশ করা সম্ভব হলো না। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল, যা নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের সংঘাতের আবহ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ঘটনার নেপথ্যে পুলিশের যুক্তি: সূত্রের খবর, বহরমপুর জেল থেকে এই ‘হাই রিস্ক’ প্রিজনারদের কলকাতা আদালতে আনার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ ‘রেডিওগ্রাম’ বার্তার মাধ্যমে জেল কর্তৃপক্ষকে জানায় যে, পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী নেই। পুলিশের দাবি, আজ থেকে রাজ্যে উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ায় অধিকাংশ পুলিশকর্মী পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে ব্যস্ত। ফলে অভিযুক্তদের এসকর্ট বা নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত বাহিনী দেওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে জেল কর্তৃপক্ষের তরফে অভিযুক্তদের ভার্চুয়ালি আদালতে পেশ করার আবেদন জানানো হয়েছে।

কেন এই বেলডাঙা মামলা এত গুরুত্বপূর্ণ? চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এক শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা এলাকা। অভিযোগ ওঠে, এক শ্রমিককে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই দেহ এলাকায় ফিরতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মহেশপুর সংলগ্ন অঞ্চল। শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার রেললাইনে বাঁশ ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে খোদ পুলিশকেও ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। এমনকি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও আক্রান্ত হন।

NIA তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি: রাজ্য পুলিশের তদন্তের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে মামলাটি কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে যায়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে NIA এই তদন্তভার সামলাবে। তবে তদন্তভার নেওয়ার পর থেকেই বারবার ‘অসহযোগিতা’র অভিযোগ উঠছে। প্রশ্ন উঠছে, উচ্চ-মাধ্যমিকের কারণ দেখিয়ে আদালতের নির্দেশ এড়ানো কি নিছকই প্রশাসনিক অভাব, নাকি এর পিছনে রয়েছে বড় কোনো আইনি জটিলতা? ৩৬ জন অভিযুক্তকে দ্রুত আদালতে পেশ করা না গেলে তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আইনজ্ঞরা।