বিলাসবহুল গাড়ির নিচে পিষ্ট সাধারণ মানুষ! কানপুরের ‘হিট অ্যান্ড রান’ মামলায় অবশেষে গ্রেফতার কোটিপতির পুত্র

উত্তরপ্রদেশের কানপুরে বিলাসবহুল ল্যাম্বরগিনি গাড়ির ভয়াবহ দুর্ঘটনার চার দিন পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তামাক ব্যবসায়ী কে.কে. মিশ্রর ছেলে শিবম মিশ্র। গত রবিবার বিকেলের সেই হাড়হিম করা ঘটনার পর থেকেই শিবম পলাতক ছিলেন বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সকালে কানপুর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারির পরপরই শিবম মিশ্রর প্রথম ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশি পাহারায় শিবমকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে সেখানে নিয়ে আসা হয় এবং পরে স্থানীয় আদালতে পেশ করা হয়। দুর্ঘটনার পর এটিই ছিল তার প্রথম জনসমক্ষে আসা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক: রবিবার কানপুরের একটি অভিজাত এলাকায় দ্রুতগতির ল্যাম্বরগিনি রেভুয়েল্টো গাড়িটি পথচারী ও একাধিক যানবাহনকে সজোরে ধাক্কা মারে। এই ঘটনায় অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসে, যেখানে দেখা যায় একজন বাউন্সার শিবম মিশ্রকে চালকের আসন থেকে টেনে বের করছেন। উপস্থিত জনতাকে তখন চিৎকার করে ভিডিও রেকর্ড করার অনুরোধ করতে শোনা যায়।
মামলায় নাটকীয় মোড়: গ্রেফতারির ঠিক একদিন আগে, বুধবার এই মামলায় এক নতুন মোড় আসে। শিবমের আইনজীবী নরেন্দ্র কুমার যাদব দাবি করেন যে, শিবম নয়, বরং গাড়ির স্থায়ী চালক মোহন (৪৫) দুর্ঘটনার সময় স্টিয়ারিংয়ে ছিলেন। মোহন নামক ওই ব্যক্তি একটি হলফনামা জমা দিয়ে দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত এবং ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলো অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। আপাতত পুলিশি হেফাজতে থাকা শিবম মিশ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আসল সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।