৭৭ বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান! ভাড়াটে সংক্রান্ত মামলায় ঐতিহাসিক রায় রাজস্থান হাইকোর্টের

দীর্ঘ ৭৭ বছর ধরে চলা এক ভাড়াটে বিবাদের মীমাংসা করতে গিয়ে রাজস্থান হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে। বিচারপতি বিপিন গুপ্তের একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, মূল ভাড়াটের মৃত্যুর পর তাঁর আইনি উত্তরাধিকারীরা পৃথক বা স্বাধীন ‘সহ-ভাড়াটে’ নন, বরং তাঁরা ‘যৌথ ভাড়াটে’ (Joint Tenants) হিসেবে বিবেচিত হবেন। ফলে, পরিবারের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে উচ্ছেদের আদেশ জারি হলে, তা সমস্ত উত্তরাধিকারীর ওপর সমানভাবে কার্যকর হবে।

মামলার প্রেক্ষাপট: এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত ১৯৪৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। তৎকালীন জমিদার বালকিষণ মাত্র ৫ টাকা মাসিক ভাড়ায় তাঁর সম্পত্তি যমুনালাল ও বংশীধরকে লিজ দিয়েছিলেন। দুই মূল ভাড়াটের মৃত্যুর পর তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম সম্পত্তিটি দখল করে রাখে। ২০০১ সালে সম্পত্তির ক্ষতি ও ভাড়া বকেয়া থাকার অভিযোগে রাজস্থান ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে উচ্ছেদের মামলা করেন বর্তমান বাড়িওয়ালারা। ২০১৬ সালে ভাড়া ট্রাইব্যুনাল উচ্ছেদের নির্দেশ দিলেও উত্তরাধিকারীরা নিজেদের ‘পৃথক ভাড়াটে’ দাবি করে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানান।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ: হাইকোর্ট আবেদনকারীদের সমস্ত যুক্তি খারিজ করে দিয়ে জানায়:

  • যৌথ ভাড়াটে: ২০০১ সালের আইনে ‘উত্তরাধিকারী’ শব্দটি ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রত্যেকে আলাদা অধিকার দাবি করতে না পারে। সমস্ত উত্তরাধিকারী মিলে একটি ‘একক ইউনিট’ হিসেবে কাজ করেন।

  • নিবন্ধিত নথি: আবেদনকারীরা সম্পত্তির ‘মৌখিক বিক্রয়’-এর দাবি করেছিলেন। আদালত সাফ জানায়, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কেবল নিবন্ধিত নথির মাধ্যমেই সম্ভব; মৌখিক দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ের নজির টেনে হাইকোর্ট উচ্ছেদের আদেশ বহাল রেখেছে। এই রায়ের ফলে দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতা থেকে বাড়িওয়ালারা মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।