ভারত বনধের প্রভাব: স্তব্ধ জনজীবন, চাক্কা জ্যামে নাকাল যাত্রীরা! আপনার শহর কি আজ সচল?

আজ ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন শ্রম কোড, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণ, ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি এবং বেকারত্বের প্রতিবাদে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (SKM) দেশব্যাপী ‘ভারত বনধ’-এর ডাক দিয়েছে। আজ সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এর মিশ্র প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে কেরালা, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কিছু রাজ্যে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
রাজ্যভিত্তিক প্রভাব:
-
কেরালা: তিরুবনন্তপুরম সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বাস পরিষেবা বন্ধ থাকায় রেল স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
-
ওড়িশা: ভুবনেশ্বর সহ বিভিন্ন শহরে ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। যানচলাচল অনেকটাই ব্যাহত।
-
পশ্চিমবঙ্গ: কলকাতায় বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়নগুলির মিছিলের জেরে সকালে অফিস টাইমে বেশ কিছু জায়গায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ট্রেন পরিষেবা এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিক থাকলেও বাসের সংখ্যা অনেক কম।
কী খোলা, কী বন্ধ? ১. স্কুল ও কলেজ: সরকারিভাবে কোনো ছুটির ঘোষণা করা হয়নি। তবে স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে অনেক স্কুল ব্যক্তিগতভাবে ছুটি ঘোষণা করেছে। বাড়ির বাইরে বেরোনোর আগে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা শ্রেয়। ২. ব্যাংকিং পরিষেবা: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মীদের বড় অংশ এই ধর্মঘটকে সমর্থন করায় চেক ক্লিয়ারেন্স ও ব্যাঙ্কিং লেনদেনে সমস্যা হতে পারে। তবে অনলাইন পেমেন্ট (UPI) এবং এটিএম পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে। ৩. পরিবহন: সরকারি বাস (Roadways) এবং বেশ কিছু অটো-ট্যাক্সি সংগঠন এই বনধে সামিল হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বড়সড় ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।
এআইটিইউসি (AITUC)-এর সাধারণ সম্পাদক অমরজিৎ কৌর দাবি করেছেন যে, এবারের বনধে প্রায় ৩০ কোটি শ্রমিক সামিল হতে পারেন। ৬০০-র বেশি জেলায় এই আন্দোলনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।