বাংলাদেশে ‘ভোটযুদ্ধ’ শুরু: হাসিনা-পরবর্তী যুগে কার দখলে যাবে ঢাকা? ভারতের নজর প্রতিবেশী ডেরায়

রক্তক্ষয়ী ছাত্র গণআন্দোলন এবং শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের পতনের পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) এক ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের সাক্ষী থাকছে বাংলাদেশ। সকাল ৭:৩০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল ৪:৩০ মিনিট পর্যন্ত। দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পর এই নির্বাচন কেবল বাংলাদেশের নতুন সরকার নির্বাচন নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের এক বড় মাধ্যম হতে চলেছে।

নিরাপত্তার চাদরে ভোট উৎসব: অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৯০ শতাংশের বেশি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ২৫,০০০ বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে সরাসরি নজরদারি চালানো হচ্ছে। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এবং রাজনৈতিক সমীকরণ: আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে নিষিদ্ধ থাকায় মূল লড়াই হচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি (BNP) এবং ড. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াত-ই-ইসলামীর ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। প্রাক-নির্বাচনী জরিপে বিএনপিকে এগিয়ে রাখা হলেও, জামায়াত ও তরুণ নেতৃত্বের জোট (এনসিপি) এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

ভারতের অস্বস্তি বনাম প্রতিবেশী নীতি: নয়াদিল্লির কাছে এই নির্বাচন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। হাসিনার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং চীন-পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ভারতকে ভাবিয়ে তুলছে। যদিও বিএনপি এবং জামায়াত উভয়েই ভারতের সঙ্গে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে’ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আশ্বাস দিয়েছে, তবুও দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে ঝুঁকে থাকে, এখন সেটাই দেখার।