অসমের জাতীয় সড়কে নামবে প্রধানমন্ত্রীর বিমান! ১৪ ফেব্রুয়ারি কি ইতিহাস সৃষ্টি হতে চলেছে মোরানে?

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি এক অভাবনীয় এবং ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে অসম। এবার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিমান অবতরণ করবে কোনো প্রথাগত বিমানবন্দরে নয়, বরং সরাসরি জাতীয় সড়কের ওপর। অসমের ডিব্রুগড় জেলার মোরানে অবস্থিত ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ককে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে সাজ সাজ রব। প্রধানমন্ত্রীর সফরের এই বিশেষ অংশটি রাজ্যের পরিকাঠামো এবং বায়ুসেনার সক্ষমতার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করতে চলেছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রধান আকর্ষণ হবে জাতীয় সড়কের ওপর বিমান অবতরণ এবং বায়ুসেনার একটি বর্ণাঢ্য ‘এয়ার শো’। আগামী শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে চাবুয়া বিমানবন্দরে পৌঁছবেন এবং সেখান থেকে মোরানের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সকাল ১০টা নাগাদ তিনি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আধ ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হবে ভারতীয় বায়ুসেনার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলির প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীতে বায়ুসেনার ফাইটার জেটগুলো এমনভাবে কৌশল প্রদর্শন করবে যা সম্প্রতি গুয়াহাটি এয়ার শো-তেও দেখা গিয়েছিল। তবে সবথেকে চমকপ্রদ বিষয় হলো, প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে কয়েকটি বিমান মোরানের এই বিশেষ হাইওয়ে রানওয়েতে সরাসরি অবতরণ করবে।

ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) মোরানের জাতীয় সড়কে সফলভাবে মহড়া চালাচ্ছে। জাতীয় সড়কের একটি নির্দিষ্ট অংশকে এমনভাবে শক্তিশালী ও প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে সেখানে সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস বা সুখোই-৩০ এমকেআই-এর মতো ভারী ও দ্রুতগামী বিমান অনায়াসে ওঠানামা করতে পারে। আপৎকালীন পরিস্থিতি এবং কৌশলগত যুদ্ধের সময় হাইওয়েকে রানওয়ে হিসেবে ব্যবহারের এই সক্ষমতা ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন পালক যোগ করল।

মোরানের অনুষ্ঠান শেষ করে প্রধানমন্ত্রী গুয়াহাটির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে তিনি ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নবনির্মিত গুয়াহাটি-উত্তর গুয়াহাটি সংযোগকারী মেগা ব্রিজের উদ্বোধন করবেন। মুখ্যমন্ত্রী এই সেতুকে ‘স্থাপত্যের বিস্ময়’ বলে অভিহিত করেছেন। এটি রাজ্যের পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (PWD) দ্বারা নির্মিত দেশের অন্যতম বৃহৎ সেতু। উদ্বোধনের পর শুরুতে সেতুটি কেবল সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য খুলে দেওয়া হবে, যাতে তারা এই বিশাল পরিকাঠামোটি ঘুরে দেখার সুযোগ পান। ১ মার্চ থেকে এই সেতুতে যানবাহন চলাচল শুরু হবে। মোদীর এই সফর অসমের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।