“লজ্জা করে না টাকা তুলতে?” লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বিজেপি মহিলাদের চরম অপমান তৃণমূল সাংসদের!

কোচবিহারের পেটলার জনসভা থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে বিষ্ফোরক মন্তব্য করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিলেন তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়া। সরাসরি বিজেপির মহিলা সমর্থকদের আক্রমণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তৃণমূল সরকারের দেওয়া প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে কেন তাঁরা অন্য দলকে ভোট দিচ্ছেন?

সাংসদ বসুনিয়া বলেন, “বিজেপির মহিলারা হাত পেতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভিক্ষা নিচ্ছেন। অথচ ভোট দেওয়ার সময় বড় লেকচার মেরে পদ্মফুলে ভোট দিচ্ছেন। আপনাদের লজ্জা করে না যখন ব্যাঙ্ক থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তোলেন? এই টাকা তো ফেরত দেওয়া উচিত।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কন্যাশ্রী, কৃষক বন্ধু থেকে শুরু করে বিনা পয়সার চাল—সবই রাজ্যের দেওয়া। বিজেপির পক্ষ থেকে গত ১০-১২ বছরে কোনো উন্নয়নমূলক প্রকল্প করা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, বিজেপি শুধু হিন্দু-মুসলমান রাজনীতি বোঝে।

পাল্টা দিতে দেরি করেনি গেরুয়া শিবির। কোচবিহার জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি বিরাজ বসু কড়া ভাষায় জানান, “এই প্রকল্পগুলি কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। সাধারণ মানুষের করের টাকায় এই প্রকল্প চলে।” অন্যদিকে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং সুকান্ত মজুমদার পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। শুভেন্দু ঘোষণা করেছেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৩০০০ টাকা করা হবে। বর্তমানে এই প্রকল্পে সাধারণ মহিলারা ১৫০০ টাকা এবং সংরক্ষিত শ্রেণির মহিলারা ১৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপির এই বাগযুদ্ধ এখন তুঙ্গে।