আগামীকাল ভারত বনধ! ৩০ কোটি শ্রমিকের বিক্ষোভে স্তব্ধ হতে পারে দেশ, ব্যাঙ্ক থেকে পরিবহণে বড় প্রভাব

কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন চারটি শ্রম কোড এবং কৃষি নীতিগুলোর প্রতিবাদে আগামীকাল, ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন। এই মেগা ধর্মঘটে ৩০ কোটি শ্রমিক শামিল হতে পারেন বলে দাবি করেছেন ইউনিয়ন নেতারা। সম্মিলিত কৃষক মোর্চা (SKM) এবং বড় বড় ব্যাঙ্ক ফেডারেশনগুলো এই বনধকে সমর্থন জানানোয় আগামীকাল সারা দেশে ব্যাঙ্ক পরিষেবা, গণপরিবহণ এবং সরকারি অফিসের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কেন এই ধর্মঘট? বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ, গত বছরের নভেম্বরে জারি হওয়া নতুন চারটি শ্রম কোড শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে এবং মালিকপক্ষকে যেকোনো সময় কর্মী ছাঁটাইয়ের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রস্তাবিত ‘ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’র ফলে দেশীয় কৃষি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কৃষক সংগঠনগুলো। তাঁদের দাবি—ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করা, এমজিএনআরইজিএ (MGNREGA) পুনরুদ্ধার এবং বেসরকারিকরণ বন্ধ করতে হবে।

কী খোলা, কী বন্ধ?

ব্যাঙ্ক ও অফিস: এসবিআই (SBI) এবং আইডিবিআই (IDBI) ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের সতর্ক করে জানিয়েছে যে ব্যাঙ্ক পরিষেবা আংশিক ব্যাহত হতে পারে। অনলাইন ব্যাঙ্কিং ও এটিএম চালু থাকলেও চেকে টাকা তোলা বা জমা দেওয়ায় দেরি হতে পারে।

পরিবহণ: কেরালা, ওড়িশা এবং কর্নাটকের মতো রাজ্যে গণপরিবহণ ও বাজার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে ‘চাকা জ্যাম’-এর জেরে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে।

স্কুল-কলেজ: বনধের কোনো কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা না থাকলেও স্থানীয় পরিস্থিতি বিচার করে ওড়িশা ও কেরালায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জরুরি পরিষেবা: হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহের মতো জরুরি পরিষেবাগুলো বনধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানানো হলেও যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।