গণতন্ত্রের অপমৃত্যু! হংকংয়ের মিডিয়া মোগল জিমি লাইয়ের ২০ বছরের জেল, বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

হংকংয়ের গণতন্ত্রকামী আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং অধুনালুপ্ত ‘অ্যাপল ডেইলি’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা জিমি লাইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিল হংকং হাইকোর্ট। সোমবার বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে এই কঠোরতম সাজা শোনানো হয়। ৭৮ বছর বয়সী এই মিডিয়া টাইকুনের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ এবং ‘বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ’-এর অভিযোগ এনেছে বেইজিং। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই বয়সে ২০ বছরের সাজা আসলে জিমি লাইয়ের জন্য ‘কার্যত মৃত্যুদণ্ড’-র সমান।
২০২০ সালে বেইজিং প্রবর্তিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের পর থেকে হংকংয়ের স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অভিযোগ বারবার উঠেছে। জিমি লাইয়ের ছেলে সেবাস্টিয়ান লাই এই রায়কে ‘হংকংয়ের বিচারব্যবস্থার সম্পূর্ণ ধ্বংস’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘ এবং ব্রিটেনসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ এই রায়ের তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে তাঁর মুক্তি দাবি করেছে।
বিপরীতে, বেইজিং এবং চিনা সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’ এই রায়কে সমর্থন জানিয়ে দাবি করেছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা আইন হংকংয়ে বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে। জিমি লাইয়ের সঙ্গে তাঁর পত্রিকার আরও ছয়জন প্রাক্তন শীর্ষ কর্মকর্তাকে ৬ থেকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। এই রায় হংকংয়ের একসময়ের স্বাধীন বিচার বিভাগীয় ভাবমূর্তির ওপর চূড়ান্ত আঘাত বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।