৯ লক্ষ কোটির ধামাকা বাজেট! যোগীর ১০ম বাজেটে কৃষকদের জন্য লটারি, পাল্টে যাবে উত্তরপ্রদেশের ভাগ্য?

উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার তার দ্বিতীয় মেয়াদের চতুর্থ এবং সামগ্রিকভাবে দশম বাজেট পেশ করে এক নয়া ইতিহাস সৃষ্টি করল। বুধবার বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী সুরেশ খান্না ৯ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিশাল অংকের বাজেট পেশ করেন, যা রাজ্যের ইতিহাসে বৃহত্তম। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেটকে ‘উন্নয়নের মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করে সরকার দাবি করেছে যে, এটি কেবল একটি আর্থিক নথি নয়, বরং উত্তরপ্রদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার একটি নীল নকশা।

কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা ও কৃষি রপ্তানি কেন্দ্র বাজেট বক্তৃতায় সুরেশ খান্না জানান, উত্তরপ্রদেশ বর্তমানে কৃষি উৎপাদনে দেশের মধ্যে এক নম্বর স্থানে রয়েছে। কৃষকদের আয় বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় রাজ্যে একটি অত্যাধুনিক ‘কৃষি-রপ্তানি কেন্দ্র’ (Agri-Export Hub) স্থাপন করা হবে। এর ফলে উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের ফসল বিক্রি করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় ৬২ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন এবং রেকর্ড পরিমাণ আখের দাম পরিশোধ করা হয়েছে। গম, ধান, আলু এবং আম সহ বেশ কিছু ফসলের উৎপাদনে উত্তরপ্রদেশ এখন দেশের শীর্ষস্থানে।

১০ লক্ষ কর্মসংস্থান ও মোবাইল উৎপাদনের পাওয়ার হাউস যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের জোয়ার নিয়ে এসেছে এই বাজেট। চতুর্থ গ্লোবাল ইনভেস্টরস সামিট থেকে আসা ৫০ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের হাত ধরে রাজ্যে প্রায় ১০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে চলেছে। অর্থমন্ত্রী সগর্বে ঘোষণা করেন যে, ভারত এখন বিশ্বের অন্যতম বড় মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক এবং দেশের মোট মোবাইল উৎপাদনের ৬৫ শতাংশই হয় উত্তরপ্রদেশে। রাজ্যের ইলেকট্রনিক্স রপ্তানি বর্তমানে ৪৪,৭৪৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

দারিদ্র্য বিমোচন ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি বাজেটের অন্যতম চমকপ্রদ তথ্য হলো মাথাপিছু আয়ের উল্লম্ফন। অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১৬-১৭ সালে যেখানে রাজ্যের মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৫৪,৫৬৪ টাকা, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,০৯,৮৪৪ টাকায়। অর্থাৎ গত দশ বছরে মানুষের আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর নাগাদ এটি ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৬ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছেন, যা রাজ্যের সামাজিক উন্নয়নের একটি বড় প্রতিফলন।

আইনশৃঙ্খলা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন সুরেশ খান্না বলেন, কঠোর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কারণেই রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিকাঠামো সম্প্রসারণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রাজ্যে নতুন ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের উন্নতির ফলে উত্তরপ্রদেশ এখন জাতীয় স্টার্টআপ র‍্যাঙ্কিংয়ে ‘লিডার’ ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে।