দুয়ারে সরকারে গেলেই মিলবে নগদ সুবিধা! মমতার মাস্টারস্ট্রোকে কপাল খুলছে লক্ষ লক্ষ মানুষের

রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য বড়সড় উপহার নিয়ে হাজির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যের ভূমিহীন চাষি ও শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য এক বিরাট সুখবর ঘোষণা করলেন তিনি। মঙ্গলবার নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাজেটে যে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা কার্যকর হতে চলেছে আগামী এপ্রিল মাস থেকেই। এই ঘোষণার ফলে রাজ্যের কয়েক লক্ষ পরিবার সরাসরি উপকৃত হতে চলেছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন অর্থবর্ষ অর্থাৎ এপ্রিল মাস থেকেই ভাগচাষিরা বার্ষিক ৪ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। এর পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষিত বেকারদের জন্য চালু হওয়া ‘বাংলার যুব সাথী প্রকল্প’-এর সুবিধাও একই সময় থেকে প্রদান করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “আমরা যা বলি, তা করে দেখাই। এপ্রিল মাস থেকেই রাজ্যের ভূমিহীন চাষি ও যুবরা তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা পেতে শুরু করবেন।” আবেদন প্রক্রিয়া যাতে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ হয়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এই প্রকল্পগুলির সুবিধা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে আর সরকারি দফতরে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘দুয়ারে সরকার’-এর ধাঁচে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ ক্যাম্প করা হবে। সেখানেই ভাগচাষিরা সরাসরি আবেদন জমা দিতে পারবেন। শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, কৃষকদের জন্য আরও একটি বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার থেকে সেচের জন্য যে ‘ওয়াটার চার্জ’ দিতে হতো, তা সম্পূর্ণ মকুব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ চাষিদের আর সেচের জন্য বাড়তি খরচ করতে হবে না।

অন্যদিকে, রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘বাংলার যুব সাথী প্রকল্প’ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে চলেছে। এই প্রকল্পের অধীনে মাধ্যমিক পাশ শিক্ষিত বেকাররা মাসে ১,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত যুবক-যুবতীরা এই সুবিধার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত তাঁরা এই ভাতা পাবেন। এর ফলে রাজ্যের উচ্চশিক্ষিত কিন্তু কর্মহীন যুবকদের দৈনন্দিন হাতখরচ ও সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রভূত সাহায্য হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগে এই দুই মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন তৃণমূল সরকারের এক কৌশলী চাল। রাজ্যের এক বড় অংশের ভোটব্যাঙ্ককে তুষ্ট করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে ভাগচাষিদের মন জয় এবং অন্যদিকে শিক্ষিত বেকারদের পাশে দাঁড়িয়ে কর্মসংস্থানের অভাবের অভিযোগ কিছুটা হলেও ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা এই ঘোষণার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। এপ্রিল মাস থেকেই টাকা ঢুকতে শুরু করবে শুনে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের সাধারণ মহলে উত্তেজনার পারদ চড়ছে।