বিহারে আবারও ‘পাকড়ুয়া বিবাহ’? ছাত্রকে মাদক খাইয়ে জোর করে বিয়ের অভিযোগে তোলপাড় সমস্তিপুর!

বিহারে ‘পাকড়ুয়া বিবাহ’ বা জোরপূর্বক বিয়ের প্রথা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। এবার সমস্তিপুর জেলা থেকে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। হোম গার্ড নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া এক ছাত্রের দাবি, তাকে অপহরণ করে মাদক মেশানো পানীয় খাইয়ে অচৈতন্য করা হয় এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওর দৃশ্য ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নীতীশ কুমার নামে ওই যুবক বিয়ের পিঁড়িতে এমনভাবে বসে আছেন যেন তিনি পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে একেবারেই অচেতন। মালাবদলের সময় তিনি নিজের হাত পর্যন্ত তুলতে পারছিলেন না। পাশের এক ব্যক্তি তার হাত ধরে জোর করে মালাবদলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সাহায্য করছেন। নীতীশের দাবি, জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেকে বিয়ের মণ্ডপে আবিষ্কার করেন। তাকে আটকে রেখে বারবার মাদক দেওয়া হয়েছিল যাতে তিনি বাধা দিতে না পারেন।
দুপক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি নীতীশের পরিবার সরাসরি দুই বন্ধু কুন্দন ও রাহুলের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ এনেছে। নীতীশের ঠাকুরদা জানান, আগে এই সম্বন্ধ নিয়ে আলোচনা হলেও তারা মেয়েটিকে পছন্দ করেননি। তাই প্রতিশোধ নিতেই বন্ধুদের সহায়তায় এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে। অন্যদিকে, কনের ভাই জয় কুমারের দাবি, নীতীশের পরিবারের সম্মতিতেই এই বিয়ে হয়েছে এবং গত ছয় মাস ধরে তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। ভিডিও কলেও নীতীশের মা মেয়েটিকে দেখেছিলেন বলে তার দাবি।
পুলিশি পদক্ষেপ নীতীশের মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পাটোারি থানার পুলিশ যুবককে উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভাইরাল ভিডিওটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নীতীশকে সত্যি মাদক দেওয়া হয়েছিল কি না এবং এই অপহরণের পেছনে কাদের হাত রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।