মৃত স্ত্রীর ‘ভূত’ পাঠাল ওটিপি! ২ বছর পর শ্মশানে পাঠানো বউকে জ্যান্ত দেখে পুলিশেরও চক্ষু চড়কগাছ!

উত্তর প্রদেশের বস্তি জেলা থেকে উঠে এল এক অবিশ্বাস্য বাস্তব কাহিনী, যা কোনো থ্রিলার সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে। যাকে দুই বছর আগে মৃত ভেবে খুনের মামলা দায়ের করেছিলেন স্বামী, সেই স্ত্রীই হঠাৎ ‘জীবিত’ হয়ে ফিরে এলেন একটি ওটিপি-র (OTP) সূত্র ধরে। ২০১৭ সালে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল সন্দীপের। সাত বছরের সুখী দাম্পত্য এবং একটি সন্তান থাকা সত্ত্বেও গত ২০২৪ সালের ১ জুলাই এক পারিবারিক বিবাদের জেরে প্রিয়াঙ্কা নিখোঁজ হয়ে যান। হন্যে হয়ে খুঁজেও যখন হদিস মেলেনি, তখন স্বামী সন্দীপ সন্দেহ করেন যে গয়নার লোভে প্রিয়াঙ্কাকে তাঁর বাপের বাড়ির লোকই খুন করে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে শুরু হয় খুনের তদন্ত।
কিন্তু আসল রহস্য লুকিয়ে ছিল রাজস্থানের মরুশহরে। প্রিয়াঙ্কা ঘর ছাড়ার পর অযোধ্যায় সরযূ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে রাজস্থান থেকে আসা মঙ্গলচন্দ্র নামে এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধার করেন। এরপর প্রিয়াঙ্কা তাঁর সঙ্গেই রাজস্থান চলে যান এবং সেখানে নতুন পরিচয় নিয়ে ঘর বাঁধেন। কিন্তু অপরাধ বা সত্য কখনও চাপা থাকে না। দুই বছর পর রাজস্থানে নিজের আধার কার্ডের তথ্য আপডেট করতে গিয়েই ঘটে বিপত্তি। প্রিয়াঙ্কা যখনই তাঁর পুরনো আধার নম্বর ব্যবহার করেন, অমনি লিঙ্ক করা মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি চলে যায়। আর সেই নম্বরটি সচল ছিল তাঁর প্রথম স্বামী সন্দীপের কাছেই।
মোবাইলে ওটিপি দেখেই চমকে ওঠেন সন্দীপ। তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর স্ত্রী এখনও জীবিত এবং আধার ব্যবহারের চেষ্টা করছেন। তড়িঘড়ি পুলিশকে খবর দিলে ইলেকট্রনিক সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে রাজস্থান থেকে প্রিয়াঙ্কা ও তাঁর ছেলেকে উদ্ধার করে বস্তিতে নিয়ে আসা হয়। তবে এই গল্পের শেষটা মোটেও সুখের হয়নি। দুই বছর পর স্ত্রীকে ফিরে পেলেও ক্ষুব্ধ সন্দীপ তাঁকে আর গ্রহণ করতে চাননি। তিনি কেবল ছেলেকে নিজের কাছে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ট্র্যাজেডি এখানেই যে, ছোট ছেলেটি কেবল তার জন্মদাতা পিতাকে চিনতেই অস্বীকার করেনি, বরং তাঁর সাথে যেতেও কান্নায় ভেঙে পড়ে। একটি ভুল সিদ্ধান্ত আর এক অদ্ভুত ওটিপি কীভাবে সাজানো সংসার তছনছ করে দিল, পিলখাব গ্রামের এই ঘটনা এখন সারা দেশে চর্চার বিষয়।