জব্বলপুরের কারখানায় তৈরি হচ্ছে ‘ভীষ্ম’! টি-৯০ ট্যাঙ্কের মেকওভারে কাঁপবে শত্রুপক্ষ, সেনার শক্তি বাড়ছে কয়েক গুণ!

ভারতীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁল মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুর। দেশের সামরিক শক্তির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘টি-৯০ ভীষ্ম’ ট্যাঙ্ককে এবার নতুন রূপ ও আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করার দায়িত্ব পেল ‘ভেহিক্যাল ফ্যাক্টরি জব্বলপুর’ (VFJ)। টি-৭২ ট্যাঙ্কের সফল মেরামতি ও আধুনিকীকরণের পর, এবার সরাসরি ঘাতক টি-৯০ ট্যাঙ্কের আপগ্রেডেশন শুরু করতে চলেছে এই কারখানা। এর ফলে চেন্নাইয়ের পর জব্বলপুরই হয়ে উঠল দেশের দ্বিতীয় শহর, যেখানে এই অত্যাধুনিক ট্যাঙ্কের সম্পূর্ণ ভোলবদল করা হবে।

এমআরও (MRO – Maintenance, Repair and Overhauling) প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে চেন্নাই থেকে দুটি টি-৯০ ট্যাঙ্কের প্রথম ব্যাচ জব্বলপুরে পৌঁছাতে চলেছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য ফ্যাক্টরির ১৫০ জন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারের একটি বিশেষ টিম দিনরাত কাজ করছে। এতদিন পর্যন্ত এই কারখানাটি মূলত মাইন-প্রুফ যান এবং সামরিক ট্রাক তৈরির জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু এখন তারা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত শক্তিশালী ট্যাঙ্ক নিয়ে কাজ করবে। ইঞ্জিনিয়ারদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে স্থানীয় ‘ট্রিপল আইটিডিএম’-এর (IIITDM) মেধাবী ছাত্ররাও, যারা এই ট্যাঙ্কের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।

টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্কটি তার বিধ্বংসী ক্ষমতা, এক্সপ্লোসিভ রিঅ্যাক্টিভ আর্মার এবং রাসায়নিক-জৈবিক হামলা মোকাবিলার ক্ষমতার জন্য বিশ্ববিখ্যাত। ভিএফজে-তে এই ট্যাঙ্কের প্রতিটি যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করে সেগুলিকে অত্যাধুনিক করা হবে, যা ট্যাঙ্কের আয়ু এবং যুদ্ধক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই প্রকল্পের জন্য কারখানায় একটি বিশেষ নতুন প্ল্যান্টও স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল ভারতীয় সেনাবাহিনীর সমর প্রস্তুতিকে শক্তিশালী করবে না, বরং প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার স্বপ্নকেও এক কদম এগিয়ে নিয়ে যাবে।