বেলডাঙা হিংসায় এনআইএ তদন্তে সায়! সুপ্রিম কোর্টেও বড় ধাক্কা খেল মমতা সরকার

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা হিংসা মামলায় বড়সড় স্বস্তি পেল না পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে গেলেও, বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ হাইকোর্টের নির্দেশেই কার্যত সিলমোহর দিল। অর্থাৎ, বেলডাঙার অশান্তিতে এনআইএ (NIA) তদন্তের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তাতে আলাদা করে কোনও হস্তক্ষেপ করল না শীর্ষ আদালত। এর ফলে ওই ঘটনার তদন্তভার এখন এনআইএ-র হাতে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।

জানুয়ারি মাসের শুরুতে ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বেলডাঙা। শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় রেল অবরোধ থেকে শুরু করে পুলিশের ওপর হামলা ও সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ— রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। এই ঘটনায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে মিম (MIM) নেতাসহ ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলকাতা হাইকোর্ট আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিল এবং এনআইএ তদন্তের বিষয়টি কেন্দ্রের ওপর ছেড়েছিল। রাজ্য সরকার এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানালে সুপ্রিম কোর্ট বুধবার স্পষ্ট করে দেয় যে, হাইকোর্টের রায়ে তারা হস্তক্ষেপ করবে না। তবে ইউএপিএ (UAPA)-এর ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগের যৌক্তিকতা হাইকোর্ট খতিয়ে দেখবে।

আদালতের এই রায় আসার পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারের আবেদন গ্রাহ্য করেনি। আমিই এই মামলায় আবেদনকারী ছিলাম। সত্যের জয় হয়েছে।” অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উস্কানির অভিযোগ তুলেছিলেন। কিন্তু শীর্ষ আদালতের আজকের নির্দেশের পর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা কাণ্ডে কেন্দ্রীয় তদন্তের জালে রাঘববোয়ালরা ধরা পড়েন কি না, এখন সেটাই দেখার।