‘সংসদকে ছেলেখেলা বানাবেন না!’ স্পিকারকে গালিগালাজ ও রাহুল গান্ধীর আচরণে ফুঁসে উঠলেন কিরণ রিজিজু

প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম.এম. নরভানের স্মৃতিচারণমূলক বই নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের রেশ এবার পৌঁছাল সংসদে। বুধবার কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, দেশের নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত।
“রাহুল গান্ধীকে শেখানোর ক্ষমতা আমার নেই” সংসদে চলা বিশৃঙ্খলা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রিজিজু বলেন, “রাহুল গান্ধী কোন জগতে বাস করেন বা কোন আদর্শ তাকে চালিত করে, তা আমি জানি না। ওনাকে নতুন করে শেখানোর কিছু নেই। কিন্তু কংগ্রেসের প্রবীণ নেতাদের উচিত ওনাকে বোঝানো যে সংসদ এভাবে চলতে পারে না। এখানে শিশুদের মতো আচরণ করবেন না। আমাদের দেশ বিশাল এবং নিরাপত্তা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। নিরাপত্তাকে হাতিয়ার করে কারও সম্মানহানি করা ঠিক নয়।”
স্পিকারের চেম্বারে নজিরবিহীন ‘অসভ্যতা’ মঙ্গলবার সংসদের ভেতরে ঘটে যাওয়া অশান্তি নিয়ে রিজিজু এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি জানান, স্পিকার ওম বিড়লা অত্যন্ত মর্মাহত। রিজিজুর অভিযোগ, “প্রায় ২০-২৫ জন কংগ্রেস সাংসদ স্পিকারের চেম্বারে ঢুকে তাকে গালিগালাজ করেছেন এবং অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কে.সি. ভেনুগোপালের মতো নেতারা সেখানে উপস্থিত থেকে সাংসদদের এই আচরণে উস্কানি দিয়েছেন।”
নিয়ম না মানার অভিযোগ রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, রাহুল দাবি করেছেন যে কথা বলার জন্য তার কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই। রিজিজু মনে করিয়ে দেন, “চেয়ারের অনুমতি ছাড়া হাউসে কেউ কথা বলতে পারেন না, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও নিয়ম মেনে চলেন। কিন্তু রাহুল গান্ধী কোনো নিয়ম মানতে চাইছেন না।” এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে বুধবার সংসদের অধিবেশনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্পিকার ওম বিড়লা।