বাস্তব নাকি সত্যজিৎ রায়ের ‘খগম’? তরুণী নিখোঁজ হতেই বিছানায় ৫ ফুটের সাপের খোলস!

উত্তরপ্রদেশের আউরাইয়া জেলার সিংগানপুর গ্রাম। রবিবার রাতের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামজুড়ে এখন তুঙ্গে কুসংস্কার আর রহস্যের চর্চা। পরিবারের দাবি, রাতে নিজের ঘরে ঘুমোতে গিয়েছিলেন এক তরুণী। কিন্তু সোমবার সকালে মা তাঁকে ডাকতে গিয়ে দেখেন, বিছানা ফাঁকা। সেখানে মেয়ের কাপড়ের পাশাপাশি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে গয়না। আর ঠিক তার পাশেই পড়ে আছে পাঁচ ফুট লম্বা এক বিশালাকার সাপের খোলস।

এই খবর চাউর হতেই গ্রামজুড়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ওই তরুণী আসলে একজন ‘ইচ্ছাধারী নাগিন’। স্থানীয়দের দাবি, যে ঘরে তিনি ঘুমোতেন, তার মেঝেতে একটি সাপের গর্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। অতিপ্রাকৃত এই রহস্যের গন্ধ পেয়ে গ্রামবাসীদের ভিড় উপচে পড়ছে ওই বাড়িতে। তবে পুলিশ এই অলৌকিক তত্ত্বকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। অজিতমাল সার্কেল অফিসার (সিও) মনোজ গাঙ্গোয়ার জানিয়েছেন, “তরুণীর সাপে পরিণত হওয়ার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কুসংস্কার। তদন্তকে বিভ্রান্ত করতে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিছানায় সাপের খোলস রেখে দিয়ে থাকতে পারে।”

পুলিশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৮৭ ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। তরুণীর পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাস্তব এই ঘটনা যেন অনেককেই মনে করিয়ে দিচ্ছে সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ছোটগল্প ‘খগম’-এর কথা। তবে এটি কি নিছকই নিখোঁজ হওয়া নাকি এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে মরিয়া আউরাইয়া জেলা পুলিশ।