‘আঙ্কেল, মামনিকে ফোন দাও!’ খুদেদের এক কলেই ফাঁস নতুন বউয়ের পর্দা, মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল বরের

বিয়ে করে নতুন সংসার পাতার স্বপ্ন দেখেছিলেন কর্ণাটকের হাভেরি জেলার রবিচন্দ্র। কিন্তু কপালে যে এমন মহানাটকীয় মোড় অপেক্ষা করে ছিল, তা তিনি দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি। আড়াই লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিয়ে করেছিলেন যাকে, সেই ‘কুমারী’ কনে আসলে দুই সন্তানের মা! আর এই গোপন সত্যটি ফাঁস হলো কোনো গোয়েন্দাগিরিতে নয়, বরং খুদে সন্তানদের এক করুণ আর্তিভরা ফোন কলে। ‘আঙ্কেল, মামনিকে ফোন দিন’—ওপার থেকে আসা এই একটি বাক্যেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল নববধূর সাজানো প্রতারণার জাল।
ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের তুমকিনাকট্টি গ্রামে। গত সপ্তাহে গ্রামের যুবক রবিচন্দ্রের সঙ্গে ধুমধাম করে বিয়ে হয় জনৈক রেখার। বিয়ের আগে রেখা নিজেকে অবিবাহিত দাবি করেন এবং পরিবারের সমস্যার কথা বলে রবিচন্দ্রের কাছ থেকে ২.৫ লক্ষ টাকা নেন। গত সপ্তাহে হিরেকেরুর দুর্গা দেবী মন্দিরে ধর্মীয় আচার মেনে তাদের চার হাত এক হয়। বিয়ের পর সাত দিন সব ঠিকঠাকই কাটছিল। কিন্তু তাল কাটল হঠাৎ আসা একটি ফোন কলে। রবিচন্দ্রের পরিবারের একজন সদস্য যখন ফোনটি ধরেন, তখন ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসে শিশুদের কণ্ঠস্বর। তারা দাবি করে যে তারা রেখার সন্তান এবং তাদের মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চায়।
এই ফোন কলের পরই রবিচন্দ্রের পরিবার ও গ্রামবাসীদের জেরার মুখে ভেঙে পড়ে রেখা। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সে গ্রাম থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করে। তবে রবিচন্দ্রের আত্মীয়রা তাকে ধাওয়া করে পাকড়াও করেন। এরপর তাকে স্থানীয় হালগেরি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—টাকার লোভেই নিজের মাতৃত্ব ও বিবাহিত পরিচয় লুকিয়ে রেখা এই জালিয়াতি করেছিলেন। বর্তমানে পুলিশ ওই নারীকে হেফাজতে নিয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখছে।