‘আমাকে মারতে সুপারি কিলার নিয়োগ করেছেন এসপি!’ মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে মমতাকে বেনজির আক্রমণ হুমায়ুন কবীরের

মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক আকাশে যুদ্ধের মেঘ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রেজিনগরে এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে জেলা পুলিশ সুপার (SP) এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির (JUP) প্রধান হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার তাঁকে সশরীরে খতম করার জন্য দু’জন সুপারি কিলার নিয়োগ করেছেন। এমনকি পথ দুর্ঘটনার ছক কষে তাঁকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

এদিন শুধুমাত্র পুলিশ প্রশাসনই নয়, সরাসরি তৃণমূল নেত্রীর সততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হুমায়ুন। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের মাধ্যমে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়ে গিয়ে তৃণমূল দল চালাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হুঁশিয়ারি, “রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে আমাকে খুনের ষড়যন্ত্র চলছে। এসপি এবং লালগোলার ওসি কোথায় থাকেন, তা ২৮ ফেব্রুয়ারির পর দেখে নেব।” এখানেই শেষ নয়, এক সংখ্যালঘু ধর্মগুরুকে রাস্তায় ফেলে পেটানোর নিদান দেওয়ার পাশাপাশি বুধবার এক লক্ষ লোক নিয়ে বেলডাঙা থানা ঘেরাও করার ডাক দিয়েছেন তিনি।

হুমায়ুন কবীরের এই রণংদেহি মেজাজ জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে বুধবার বাবরি মসজিদ নির্মাণের প্রতীকী কাজ শুরুর দিনই থানা ঘেরাও এবং ‘থানার ইট খুলে নেওয়া’র মতো মন্তব্যে জেলাজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুর্শিদাবাদের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতেই হুমায়ুন এই কড়া অবস্থান নিয়েছেন। একদিকে ধর্মগুরুদের সঙ্গে সংঘাত, অন্যদিকে প্রশাসনের সঙ্গে সম্মুখ সমর— সব মিলিয়ে হুমায়ুন কবীর এখন মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের পথের প্রধান কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।